চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬ ০০:০৪ এএম
গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছেন মানবিক ডিসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
চট্টগ্রাম নগরীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত ১২ বছরের শিশু রেশমা আক্তার এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আইসিইউতে। চোখের নিচ দিয়ে ঢুকে যাওয়া গুলি তার মস্তিষ্কের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের করিডোরজুড়ে তখন স্বজনদের কান্না, উৎকণ্ঠা আর অসহায় অপেক্ষা।
এমন সময় হাসপাতালে ছুটে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা প্রটোকল ছাড়াই তিনি গুলিবিদ্ধ শিশুটির শয্যার পাশে দাঁড়ান। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে নগরীর বায়েজিদ থানাধীন রৌফাবাদ শহীদ মিনার গলি এলাকায় ৫ থেকে ৬ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী যুবক হাসান ওরফে রাজুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন হাসান।
সেই গোলাগুলির শিকার হয় পথচারী শিশু রেশমা আক্তার। পরিবারের জন্য পান আনতে বাসা থেকে বের হয়েছিল সে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
শুক্রবার (০৮ মে) সকালে হাসপাতালে গিয়ে জেলা প্রশাসক শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। চিকিৎসকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন এবং নিজে হাতে রেশমার সিটি স্ক্যান রিপোর্টও পর্যবেক্ষণ করেন।
চিকিৎসকরা জেলা প্রশাসককে জানান, গুলিটি চোখের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতি করেছে। শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এ কথা শুনে জেলা প্রশাসককে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, একজন নিরীহ শিশুর এভাবে সন্ত্রাসের শিকার হওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই ঘটনা মানবিকভাবে আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমি নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি। এটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির একটি ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও অস্ত্রধারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, যেভাবে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধীদের বিতাড়িত করে একসময়কার অপরাধের অভয়ারণ্যকে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, ঠিক একইভাবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।