বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬ ১৮:২৬ পিএম
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক বিমানসেবা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি প্রতিনিধিদল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে একটি আধুনিক বিমানঘাঁটি নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক বিমানসেবা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি প্রতিনিধিদল বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে বৃহস্পতিবার সকালে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা জানান, দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল কৃষি, শিল্প ও পর্যটনে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের আকাশপথে যোগাযোগ জোরদার করতে বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বগুড়াকে দেশের অন্যতম এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা হবে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই এই বৃহৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে”।
পরিদর্শন শেষে বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান বলেন, “উত্তরাঞ্চলে একটি অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি নির্মাণের অনুমোদন প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। সেখানে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল সুবিধা গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়বে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে”।
বগুড়া এয়ারফিল্ডকে পর্যায়ক্রমে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। দ্রুত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং বিমান বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা দেবে বলে জানান বিমান বাহিনী প্রধান।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “গত ২০ এপ্রিল বগুড়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কার্গো সুবিধা নিশ্চিত হলে উত্তরাঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তন আসবে”।
তিনি জানান, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের প্রথম সামরিক বিমানঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া বিমানবন্দরে বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পাইলট একাডেমি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এতে সামরিক পাইলটদের পাশাপাশি বেসামরিক তরুণ-তরুণীদেরও পাইলট হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের জন্য প্রায় ১০ হাজার ৫০০ ফুট রানওয়ে প্রয়োজন। বিদ্যমান রানওয়ে সম্প্রসারণ করে সেই মানে উন্নীত করা হবে। ভবিষ্যতে এই বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক, অভ্যন্তরীণ ও সামরিক বিমান চলাচল করা যাবে। এতে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে”।
রানওয়ে সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধক স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।