ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ভোলায় কোস্ট ফাউন্ডেশনের ক্রয়কৃত জমিতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণে বাঁধা ও জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে।
জেলার চর ফ্যাশন উপজেলার চর মানিকা ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগের কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক টিম লিডার মোসাম্মৎ রাশিদা বেগম, বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. জহির উদ্দীন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চর মানিকা ইউনিয়নের গণস্বাস্থ্য এলাকার নিকটবর্তী ৬৯ শতক জমি কোস্ট ফাউন্ডেশন ২০২১ সালে ৩২ লাখ টাকা দিয়ে আইনগতভাবে ক্রয় করেছে। ক্রয়ের পূর্বে জমিটি দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ চার্চ কর্তৃক বরাদ্দ ছিল বলে জানা যায়।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের কাছে সকল বৈধ মালিকানার দলিলপত্র রয়েছে- যেমন দলিল, খতিয়ান, প্লট রেফারেন্স, জরিপ মানচিত্র এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অধিগ্রহণপত্র। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ এপ্রিল কোস্ট ফাউন্ডেশন তার নিজস্ব অর্থায়নে উক্ত জমিতে “কোস্ট রিসোর্স ও কীটনাশক প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র” নির্মাণকাজ শুরু করে।
প্রস্তাবিত এই কেন্দ্র স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পার্শ্ববর্তী সম্প্রদায়ের টেকসই জীবিকা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
এসময় বলা হয়, শুরু থেকেই কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে নির্মাণ কাজে বাধা সৃষ্টি করছে, জমি দখলের চেষ্টা করছে, মানহানিকর প্রচারণা চালাচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
তারা পূর্বেও বেআইনিভাবে ভূমি দখলের কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিল। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৬ মে (বুধবার) তারা মানববন্ধন ও সমাবেশ আয়োজন করে এবং কোস্ট ফাউন্ডেশনের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ভিডিও প্রচার করে।
এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, বাবুল পাটোয়ারী, সাইদ ফরাজী, মামুন খান, রফিক ফরাজী, রুহুল আমিন, শাহীন, হাসেম, ফরিদ প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ১৯ এপ্রিল কোস্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দক্ষিণ আইচা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। আলোচনার সময় স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিরোধী পক্ষ কোনো বৈধ মালিকানার দলিল বা আইনি প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়। কোস্ট ফাউন্ডেশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা কারও জমি বেআইনিভাবে দখল করেনি এবং সর্বদা আইন ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে সম্মান করে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা ও মানহানিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ করে কোস্ট ফাউন্ডেশনের বৈধ নির্মাণ কার্যক্রমে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ , সংস্থা ও এই কার্যক্রমের সাথে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধ করতে এবং নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহবান জানানো হয়েছে।
কোস্ট ফাউন্ডেশন আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আগ্রহী পক্ষ চাইলে চর ফ্যাশন কেন্দ্র থেকে জমির সকল দলিলপত্র পরিদর্শন করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানটি আশা প্রকাশ করেছে যে প্রশাসনিক সহযোগিতা ও আইনের শাসনের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হবে।
শেষে তারা স্থানীয় জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
উল্লেখ্য, এই সংস্থাটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু সহনশীলতা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, মানবাধিকার, জীবিকা উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে , একটি সুপরিচিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। সংস্থাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে স্বীকৃত।