নেত্রকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬ ১৪:০৭ পিএম
আপডেট : ০৭ মে ২০২৬ ১৪:১৩ পিএম
ধর্ষণে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগরকে আদালতে নেয় পুলিশ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ধর্ষণের শিকার হয়ে ১১ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অভিযুক্ত আসামী একই মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তাকে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক মোহসিনা ইসলাম সাগরের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার ভোর রাত সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমানউল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৪। পরে বুধবার বিকালে তাকে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। অন্তঃসত্তা শিশুটিও একই এলাকার বাসিন্দা।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর মাদ্রাসা ছুটি শেষে শিশুটিকে ঝাড়ু দিয়ে মসজিদ পরিস্কার করতে বলেন শিক্ষক সাগর। পরে মসজিদের বারান্দার একটি কক্ষ পরিস্কারের কথা বলে শিশুটিকে কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন সাগর। শিশুটি ভয়ে পরিবারের কাউকে বিষয়টি জানায়নি। ৭ মাস পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখতে পান শিশুটির মা। পরে গত ১৮ এপ্রিল মদন উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানা যায় শিশুটি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পারিবারিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি সেদিনের ঘটনা বললে মা বাদী হয়ে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নূরুল কবির রুবেল বলেন, পুলিশের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। সাগরকে প্রাথমিকভাবে র্যাব ও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ৩ দিনের রিমান্ড শেষে আশা করছি ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন হবে।