বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬ ০৯:২৩ এএম
আপডেট : ০৭ মে ২০২৬ ১১:৪৩ এএম
বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং পিঠে ‘আমি আম চোর’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে বিদ্যালয়ে ঘোরানোর ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকা গোল সাহানারাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক আদেশে বুধবার এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জারির দিন থেকেই এই আদেশ কার্যকর হবে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকা একটি আমগাছ থেকে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী এবং চতুর্থ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী দুটি করে আম পেড়ে খায়। এ ঘটনার পরদিন ২৯ এপ্রিল প্রধান শিক্ষিকা গোল সাহানারা ওই তিন শিক্ষার্থীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন। একই সঙ্গে তাদের পিঠে ‘আমি আম চোর’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দায় ঘোরানো হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে আম পেড়ে খাওয়ার অপরাধে শিক্ষার্থীর গলায় জুতার মালা শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনায় গত ৩ মে সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। পরদিন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন ঘটনাটির তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে অপমান করার ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ১২ (১) অনুযায়ী জনস্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন বলেন, এটি প্রাথমিক ব্যবস্থা। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে।