× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জে ৫০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬ ২০:২১ পিএম

ধান গোছাতে ব্যস্ত সুনামগঞ্জের কৃষকরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ধান গোছাতে ব্যস্ত সুনামগঞ্জের কৃষকরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

টানা তিন দিন ধরে রোদ থাকলেও ভোগান্তি কাটেনি সুনামগঞ্জের কৃষকদের। জেলার বোরো মৌসুমে পাকা ও আধাপাকা ধান কাটা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।

একদিকে শ্রমিক সংকট ও ধান শুকানোর পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা। অন্যদিকে, আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকলেও জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়া জমির ধান কাটতে কৃষকদের কোমর ও হাঁটু পানিতে নামতে হচ্ছে।

চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলায় ৭২ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলায় জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ ২০,১৬০ হেক্টর। চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬,৩৯৫ হেক্টর জমির ধান।

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জেলায় এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ৯১৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল এই তথ্য জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, প্রাথমিক হিসাবে জেলায় ১৯৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, গত মঙ্গলবার ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নগদ ৭,৫০০ টাকা এবং ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও সুরমা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার কমেছে। এখন পর্যন্ত জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক জুয়েল মিয়া বলেন, “ধান কাটা, মাড়াই ও শুকাতে যে পরিমাণ টাকা ব্যয় হচ্ছে সেই টাকা উঠবে না। অনেক ধান ইতোমধ্যে নষ্ট হয়েছে। ২-৩ দিনের রোদে কিছু ধান শুকানো গেছে। তবে ধানের রং নষ্ট হয়ে গেছে । এই ধান বিক্রি করা যায় না। দাম ৬শ-৭শ টাকা বলে। আমরা বিপদে আছি”।

একই গ্রামের সালমা বেগম বলেন, “৪ বিঘা জমি করছি, ধান কাটছি ঠিকই কিন্তু রোদের অভাবে সময়মতো শুকাতে পারিনি। ধানের কালার কালা হয়ে গেছে। দাম নাই, গুদামেও নিবে না বলছে এসব ধান ৷ এখন আমরা তো ধান নিয়া বিপদে আছি”।

তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুরের বাসিন্দা লিমন আহমেদ বলেন, “গুদামে ধান দেওয়া ঝামেলা। ধান নিয়া গেলে কয় শুকনা নাই, আরও কতকি বলে। সেজন্য কম টাকায় বিক্রি করতেছি”।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) বিএম মুশফিকুর রহমান বলেন, “বুধবার পর্যন্ত জেলায় ৩৬ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। জেলায় ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্টিকটন ধান সরাসরি কৃষকদের কাছে সংগ্রহ করা হবে। যেহেতু ধান সংগ্রহের নীতিমালা আছে সেক্ষেত্রে নীতিমালা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভেজা বা নষ্ট ধান সংগ্রহ করার সুযোগ নেই। তবে, সরকার যদি আমাদের নির্দেশনা দেয় তাহলে নির্দেশনা অনুযায়ী সংগ্রহ করা হবে”।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল জানান, জেলায় এখন পর্যন্ত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে ২০,১৬০ হেক্টর জমির ধান তলিয়েছে। তবে চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬,৩৯৫ হেক্টর জমির ধান।

তিনি বলেন, “টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ৫০ হাজার ৯১৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে জেলায় ১৯৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে”।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা