বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬ ২০:০৭ পিএম
আপডেট : ০৫ মে ২০২৬ ২০:১৩ পিএম
ফাইল ফটো
আদালত অবমাননার অভিযোগে বগুড়ায় ডিসিসহ তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন বগুড়ার যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২।
জেলা প্রশাসক (ডিসি), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং নন্দীগ্রাম উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে সোমবার শোকজ করা হয়।
বগুড়া জর্জ কোর্টের আইনজীবী এম এ ছোবহান মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নন্দীগ্রাম উপজেলার কোষাশ মৌজার ৫.৯৯ একর আয়তনের ‘বিষলাল’ পুকুর সংস্কার এবং পুকুরপাড়ে সাইনবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে মনছের আলী সরদারসহ ১০ জন যৌথভাবে মামলা করেন। বাদীপক্ষের অভিযোগ, পুকুর-সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালত অস্থায়ী ও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরও বিবাদীরা পুকুরপাড়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন।
বাদীপক্ষের আবেদন আমলে নিয়ে আদালত তিন কর্মকর্তাকে গত সোমবার শোকজ নোটিশ দেন। সেরেস্তাদারের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ মে সকাল ৯টায় আদালতে স্বশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের জবাব দিতে হবে। অন্যথায় একতরফাভাবে শুনানি ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, কোষাশ মৌজার জেএল-৮১, সিএস খতিয়ান-৭০, এমআরআর-১৩০ এবং আরএস খতিয়ানের ৪৫৫/৯৭০ দাগভুক্ত ‘বিষলাল’ পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে বাদীপক্ষ ভোগদখলে রেখেছেন। সেখানে তাদের বসতবাড়ি রয়েছে এবং পুকুরে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁরা। পরে সম্পত্তিটি ভুলক্রমে ১/১ খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ২০২০ সালে জেলা প্রশাসকসহ সাতজনকে বিবাদী করে মামলা (নং-৯৫/২০২০) করা হয়। ২০২১ সালের ৯ মে আদালত ওই মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুকুরটিকে সরকারি সম্পত্তি দাবি করে সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ এপ্রিল আদালত অবমাননার অভিযোগে নতুন করে মামলা করা হয়।
নন্দীগ্রাম উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার বলেন, “আদালতের কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছি। এতে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নামও রয়েছে”।
তিনি বলেন, “আমরা নোটিশের জবাব দেব। তবে মামলা হয়েছে কি না, সেটি এখনও নিশ্চিত নই”।