বিটিআরআই
ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬ ১৩:২৩ পিএম
শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটে আফ্রিকান মাখন গাছে ফুটেছে ফুল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)। প্রায় ১০০ হেক্টরের অধিক (২৫০ একরের বেশি) জায়গা নিয়ে স্থাপিত এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পুরো এলাকায় রয়েছে সারি সারি চাগাছসহ বিভিন্ন ফুল, ফল, ঔষধি জাতের হাজারো গাছ। বাগানের মাঝে মাথা উঁচু করে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে আফ্রিকান মাখন গাছ, যা সাধারণের কাছে অনেকটা অপরিচিত। ছাতার মতো চারপাশে ডালপালা ছড়িয়ে থাকা এ গাছটিতে প্রতি বছর শীতের শেষে অনেকটা হলদে রঙের ফুল ফুটে। গাছটির ফুল যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনি পাতাও বেশ সুন্দর। ফুল ফুটে থোকায় থোকায়। পাতার গড়নও গাছটিকে অন্যান্য গাছ থেকে আলাদা করে রাখে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ গাছ আমাদের দেশে বিরল।
১৯৯১ বা ১৯৯২ সালের দিকে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৎকালীন পরিচালক ড. এসএ রশিদ সরকারি সফরে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। সেখানের একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে তিনি একটি চারা সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন।
কুলাউড়া উপজেলার লোহায়নি-হলিছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সোহান আনসারী বলেন, ‘বিটিআরআইতে প্রতি বছর চার থেকে পাঁচবার প্রশিক্ষণে যেতাম। সেসময়ে গাছটি আমাদের আকৃষ্ট করত। শীতের শেষে খুবই সুন্দর ফুল চারপাশের পরিবেশটাই যেন বদলে দিত।’
রাজধানীর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাজিব পাল বলেন, ‘চলতি বছর আমি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে আসার পর গাছটির সঙ্গে ছবি ও ভিডিও করে নিয়েছি। গত বছর যখন এসেছিলাম তখন গাছটিতে ফুল ছিল না, এ বছর গাছটির অসাধারণ ফুল সত্যিই আমাকে বিমোহিত করেছে।’
ভ্রমণবিষয়ক লেখক ও ইকো ট্যুর গাইড শ্যামল দেববর্মা বলেন, ‘প্রতিদিনই শ্রীমঙ্গলে অসংখ্য পর্যটক আসেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এখন বিটিআরআইতে যুক্ত হয়েছে বিরল প্রজাতির “আফ্রিকান মাখন” ও “নাগলিঙ্গম” গাছ। এই দুটি গাছে যখন ফুল ফুটে তখন পর্যটকরা আনন্দে উদ্বেলিত হন।’
প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ক লেখক মোকারম হোসেন তার এ নিবন্ধে মাখন গাছ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। মাখন গাছ পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন থেকে ক্যামেরুন পর্যন্ত বিস্তৃত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আফ্রিকার বনাঞ্চলের স্থানীয় এক বৃক্ষ। এ গাছের ফল থেকে Kpangnan মাখন নামক এক ধরনের মাখন তৈরি হয়। Kpangnan মাখনের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চ স্টিগমাস্টেরল সামগ্রী। গবেষকদের মতে, স্টিগমাস্টেরল ডিম্বাশয়ের ক্যানসারসহ কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই গাছের উচ্চতা ৬০ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে।