সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬ ১৯:৪৭ পিএম
বৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া ধান কাটছেন কৃষকরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার প্রায় সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। চোখের সামনে সোনালি ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এখন চরম হাহাকার বিরাজ করছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রবিবার বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। তবে হাওরাঞ্চলের প্রায় ৬১ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি কিছুটা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অব্যাহত বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পানির তোড়ে হাওরের নিচু এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। অনেক জায়গায় পাকা ধান কাটার আগেই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি হলেও দিনের বেলা রোদ ওঠায় কৃষকদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে শঙ্কা কাটেনি।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নিকলী আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, ধনু-বৌলাই নদীর পানি ইটনা পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে ৩.২৬ মিটারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মেঘনা নদীর পানি চামড়াঘাটে ১৭ সেন্টিমিটার এবং কালনী নদীর পানি অষ্টগ্রাম পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।