বাঁধ মেরামতে অনিয়মের অভিযোগ
আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬ ১৮:০০ পিএম
আপডেট : ০৪ মে ২০২৬ ১৮:২১ পিএম
ফেনীর বন্যায় নদীর ভাঙা বাঁধ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফেনীবাসী। এর মধ্যেই ফের বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় নতুন করে বন্যার শঙ্কায় দিন কাটছে জেলার লাখো মানুষের। অভিযোগ উঠেছে, ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলো এখনো টেকসইভাবে মেরামত করা হয়নি। এমনকি সংস্কার কাজ নিয়েও উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ।
২০২৪-২৫ এর ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয় ফেনী। সীমান্তবর্তী পরশুরাম উপজেলার সিলোনিয়া নদী তীরের গ্রাম মির্জানগরের মনিপুরসহ বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়। দুই পাড়ের প্রায় ১০ হাজার মানুষ গত বন্যায় সর্বস্ব হারিয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সিলোনিয়া ও মুহুরী নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো পুরোপুরি মেরামত করা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টি বা উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল শুরু হলেই ফের ফসল, ঘরবাড়ি ও পশুপাখির খামার প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ মেরামতের বিষয়ে বারবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা আবু ইউসুফ অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে তারা বাঁধগুলো মেরামত করছে, বাঁধগুলো তারা সংস্কার করছে। কিন্তু আমাদের সিলোনিয়া নদীর একটি বেড়িবাঁধ এটা ২৪ সালের আগস্ট মাসের বন্যায় ভেঙেছিল এখন পর্যন্ত এই বাঁধটি মেরামত করা হয়নি। এ ধরনের অসংখ্য জায়গা আছে যেগুলো এখন পর্যন্ত মেরামত করা হয়নি।
আরেক বাসিন্দা আবদুল হালিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের গত দুই বছরে বন্যায় ক্ষতি করছে। এখনও আমাদের এই বাঁধগুলো ঠিক হয় নাই। এখন যদি ঠিক না করেন, তাহলে আমাদের এই ধান, ফসলপাতি, আমাদের ঘরবাড়ি এগুলো সব নষ্ট হয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৬টি এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪৩টি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। বন্যার আট মাস পেরিয়ে গেলেও ফুলগাজী ও পরশুরাম অংশের অর্ধশতাধিক স্থান এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ সংস্কারের জন্য যে পরিমাণ বরাদ্দ এসেছে, বাস্তবে তার অর্ধেক কাজও হয়নি। মাটি দিয়ে বাঁধ বাঁধার কথা থাকলেও নদী থেকে বালু তুলে দায়সারাভাবে মেরামত করা হয়েছে, যা সামান্য পানির তোড়েই ধসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় ২৪ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতের জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের জন্য ১ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে উপস্থাপনের সুপারিশ পেয়েছে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শিহাব আহাম্মেদ বলেন, সরকারের প্রায়োরিটি ভিত্তিতে এটা আশা করি অল্প কিছুদিন মানে নেক্সট কিছু একনেকের মধ্যে এটা আমরা ইনশাল্লাহ একনেকে উপস্থাপন করতে পারবো। আশা করি প্রকল্পটা পাশ হয়ে যাবে। তারপরে ফেনীবাসীর যে টেকসই বাঁধের যে চাওয়াটা এটার প্রসেস শুরু হবে আশা করি।