মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬ ১৩:৪৮ পিএম
আপডেট : ০৪ মে ২০২৬ ১৩:৪৮ পিএম
পানিতে তলিয়ে গেছে হাওরের বিস্তীর্ণ বোরো ধানের ক্ষেত। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জে এরই মধ্যে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকরা।
এদিকে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সোমবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে ৩.২৬ মিটারে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১০ সেন্টিমিটার বেশি।
চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৯৫ মিটার, যা ১৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২.৫৮ মিটার, বেড়েছে ১৮ সেন্টিমিটার।
তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কমে ১.৭২ মিটারে নেমেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৫ সেন্টিমিটার কম।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার সব নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, বিভিন্ন পয়েন্টে তা বিপৎসীমার ৮৯ থেকে ৪০৮ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আখতার ফারুক জানান, রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় ৩২.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দিনভর থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
ধান শুকানো নিয়েও বিপাকে কৃষকরা
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাটা ধান শুকানো নিয়েও তারা বিপাকে পড়েছেন।
বৃষ্টির কারণে খলায় রাখা ধান শুকাতে না পারায় অনেক ক্ষেত্রে ধানে চারা গজাচ্ছে বা পচে যাচ্ছে বলেও তারা জানান।
এতে হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জেলায় ১০ হাজার ৫০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলা, বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। উজানের পানির চাপ ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে।
কৃষকদের আগেই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।