কিশোরগঞ্জ
মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬ ১৩:১১ পিএম
কিশোরগঞ্জের মনিপুর ঘাট জামিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় রবিবার মাদক কারবারিদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র জমাদান কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা পুলিশ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জ শহর মাদক ও অপরাধমুক্ত করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। জেলার চিহ্নিত মাদক কারবারিরা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করে আত্মসমর্পণ ও দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়েছেন।
‘মাদকের অন্ধকার ছেড়ে আলোর পথে’- স্লোগানকে সামনে রেখে রবিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মনিপুর ঘাট জামিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় জেলা পুলিশের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাদক কারবারিরা আত্মসমর্পণ করেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। কিশোরগঞ্জ -১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল মাদক, কিশোরগ্যাং নির্মূল ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ। তারই ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে মাদক কারবারিরা উপস্থিত থেকে বক্তব্য রেখে মাদক কারবার ও মাদক সেবন ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। কিশোরগ্যাং সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়ে অপরাধ ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ইতিবাচক বলে আনন্দে-উচ্ছ্বাসে নানা মন্তব্য করেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল হক, কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জমান শরীফ, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিঞা, কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞাসহ থানার অন্যান্য কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল এলাকার চিহ্নিত বেশ কয়েকজন মাদক কারবারির স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ। তারা উপস্থিত সুধীজন ও প্রশাসনের সামনে নিজেদের ভুল স্বীকার করে অন্ধকার জগত ছেড়ে সুস্থ ধারার জীবনে ফেরার শপথ নেন। এসময় তারা প্রতীকী হিসেবে এবং অপরাধ কর্মকাণ্ড ত্যাগের নিদর্শন স্বরূপ নিজেদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে একটি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এই মরণ নেশার পথে পা না বাড়ায়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, কিশোরগঞ্জে মাদক ও সন্ত্রাসের কোনও স্থান নেই। যারা স্বেচ্ছায় অপরাধ ত্যাগ করবেন তাদের পুনর্বাসনে সহায়তা করা হবে, তবে যারা অবাধ্য হয়ে অপরাধ চালিয়ে যাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমপি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “মাদক কেবল একটি পরিবারকে ধ্বংস করে না, বরং একটি সমাজ ও রাষ্ট্রকে পঙ্গু করে দেয়। যারা আজ অন্ধকার পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে এসেছেন, তাদের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। সরকার ও প্রশাসন সবসময় আপনাদের পাশে আছে যাতে আপনারা কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সুন্দর ও সুস্থ জীবন অতিবাহিত করতে পারেন।
তিনি বলেন, “এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান থাকবে এবং সমাজ থেকে তা নির্মুল করব। সেটা আমার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে ছিল।”
মনিপুর ঘাট এলাকার সাধারণ মানুষসহ শহরবাসী পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়ে দিলে কিশোরগঞ্জ শহর দ্রুতই মাদকমুক্ত হবে এবং যুবসমাজ রক্ষা পাবে।