প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬ ১৬:১৫ পিএম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর বাজারে সবজি নিয়ে বসে আছেন সবজিবিক্রেতা । ছবি : প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে টানা বৃষ্টির কারণে কাঁচাবাজারে সবজির দাম চড়তে শুরু করেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকারভেদে সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
রবিবার সকালে ফুলবাড়ী পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি পটোল ৭০-৭৫ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪৫ টাকা, বেগুন ৫৫-৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, করলা, ঝিঙা ও বরবটি ৬৫-৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৩৫ টাকা এবং শসা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি লাউ আকারভেদে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। সবজির পাশাপাশি শাকের দামও আঁটিপ্রতি ২-৫ টাকা বেড়েছে। তবে একমাত্র আলুর দাম কিছুটা স্বস্তিদায়ক, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫-১৮ টাকায়।
বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কমল সরকার জানান, সপ্তাহখানেক আগে যে পটোল ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা শ্যামল চন্দ্রের মতে, বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়াই এই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ।
সবজির দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। ফুলবাড়ীর হোটেল ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, “সকাল-দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য যে পরিমাণ সবজি প্রয়োজন হয়, দাম বাড়ার কারণে এখন তার অর্ধেক কিনছি। বাজারে দাম বেশি হলেও গ্রাহকদের কাছ থেকে তরকারির দাম বেশি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চাহিদার চেয়ে কম সবজি দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে।”
ফুলবাড়ী অঞ্চল সবজি চাষে সমৃদ্ধ হলেও এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের আবহাওয়া বাজারের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ২৫ এপ্রিলের দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির পর গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে অনেক সবজিখেতে পানি জমে গেছে। এতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত ২৫ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত জেলায় ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম। আড়ত ব্যবসায়ী অজয় দত্ত বলেন, “বৃষ্টির কারণে কৃষকরা বাজারে সবজি কম আনছেন। সরবরাহ কমলে দাম বাড়াটাই স্বাভাবিক।” খুচরা ব্যবসায়ী হারুন উর রশিদ জানান, পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই ক্রেতা পর্যায়ে দাম একটু বেশি রাখতে হচ্ছে। এতে তাদের কোনো হাত নেই।