বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ ২২:০৯ পিএম
বরগুনার আমতলীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে সুড়ঙ্গ তৈরি করেছেন এক ইটভাটার মালিক। ছবি: প্রবা
বরগুনার আমতলীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে সুড়ঙ্গ তৈরি করেছেন এক ইটভাটার মালিক। ওই সুড়ঙ্গপথ দিয়ে চলছে ইটসহ ভাটার মালামাল পরিবহন। এতে করে বাঁধসহ আশপাশ এলাকার ১০ হাজার মানুষ জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। দ্রুত বাঁধ সংস্কারসহ জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, ২০১০ সালে আমতলীর গুলিশাখালী ইউনিয়নের আঙ্গুলকাটা গ্রামে পায়রা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাছে বদিউল আলম মুন্সি নামে এক ব্যবসায়ী মুন্সি ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা করেন। পরে তিনি সেটি কুকুয়া ইউনিয়নের আবুল হোসেন মৃধার কাছে ভাড়া দেন। সম্প্রতি ওই ইটভাটায় ইট পোড়ানোর মালামাল আনা নেওয়ার সুবিধার্থে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে সুড়ঙ্গ করা হয়েছে।
বুধবার গিয়ে দেখা যায়, বাঁধ কেটে তৈরি করা সুড়ঙ্গ দিয়ে ইটসহ ভাটার মালামাল আনা-নেওয়া হচ্ছে। বাঁধের ওপর কাঠের গুঁড়ো দেওয়া হয়েছে এবং ঝুঁকি নিয়েই মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকাবাসী আবুল হোসেন মৃধাকে নিষেধ করলেও তিনি বাঁধ কেটে সুড়ঙ্গ করা থেকে বিরত হননি। এভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে ফেলায় হুমকিতে পড়েছেন গুলিশাখালী ইউনিয়নের আঙ্গুলকাটা, খেকুয়ানী, ডালাচারা, বাজারখালী ও গুলিশাখালী গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ।
বাজারখালী গ্রামের আহসান হাবীব বলেন, ‘প্রাকৃতিকভাবেই উঁচু জোয়ার কিংবা জলোচ্ছ্বাস হলে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে জানমাল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।’
এ বিষয়ে ইটভাটার ভাড়া নেওয়া মালিক আবুল হোসেন মৃধা বলেন, ‘এ বাঁধ আমি কাটিনি। সুড়ঙ্গটি মুন্সি ব্রিকসের মালিক বদিউল মুন্সি নিজেই করেছেন। আমি ভাড়া নিয়ে ইটভাটা চালাই।’
এ বিষয়ে মালিক বদিউল মুন্সির মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বরগুনা পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান সুজন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিন পরিদর্শন করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেউ কাটতে পারবে না। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’