মোস্তাফিজুর রহমান, কয়রা (খুলনা)
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬ ২০:২৬ পিএম
আপডেট : ০২ মে ২০২৬ ২১:৫৩ পিএম
শ্রেণিকক্ষ সংকটে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে। ছবি : প্রতিদিনের বাংলাদেশ
খুলনার কয়রা উপজেলার কালনা আলিম মহিলা মাদরাসায় শ্রেণিকক্ষ সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত ভবনও শ্রেণিকক্ষ সংকটে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে খোলা আকাশের নিচে গাছতলায় পাঠদান করছে ছাত্রীরা। বৃহস্পতিবার সরজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদরাসার পুরাতন টিনশেড ঘরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ছাত্রীরা খোলা জায়গায় মাদুর ও বস্তা পেতে বসে ক্লাস করছে। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় ছাত্রীদের মধ্যে সবসময় আতঙ্ক কাজ করে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বা প্রখর রোদে পাঠদান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থী জানান, ক্লাস করার মতো পর্যাপ্ত বেঞ্চ বা কক্ষ আমাদের নেই। খোলা মাঠে বসে ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হয়। আশপাশে মানুষের আনাগোনা থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একটি নতুন ভবন আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি।
উপকূলীয় জনপদ কয়রার নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে এবং ছাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এই মাদরাসায় একটি নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি অত্র অঞ্চলের নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিবছর ছাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহবাজ আলী বলেন, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে আমরা বাধ্য হয়ে ছাত্রীদের বাইরে নিয়ে বসছি। শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে একটি আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুমতির অপেক্ষায় আছি।
তিনি জানান, বর্তমানে ৪ শতাধিক ছাত্রীর বিপরীতে পর্যাপ্ত শ্রেণি কক্ষ নেই। চলমান তিনটি কক্ষের কাজ শেষ হলেও আবাসন সংকট কাটবে না। সুষ্ঠু ভাবে শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আরও অন্তত পাঁচটি বড় কক্ষ প্রয়োজন। কক্ষ সংকটের ছাত্রীদের বাইরে ক্লাস করাতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। আমরা চাই দ্রুত অবকাঠামো সমস্যার সমাধান হোক যাতে মেয়েরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, কালনা মহিলা মাদরাসার শ্রেণিকক্ষ সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। উপকূলে নারী শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটি ভালো ভূমিকা রাখছে। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে ছাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নতুন ভবনের জন্য চাহিদাপত্র পাঠাবো। আশা করছি দ্রুতই একটি একাডেমিক ভবন বরাদ্দের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।