নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬ ১৯:২৩ পিএম
ক্ষতিগ্রস্ত নবীনগর-আশুগঞ্জ মহাসড়ক শনিবার বেলা ১১টার দিকে পরিদর্শন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কাগজে-কলমে শত শত কোটি টাকার উন্নয়ন, কিন্তু বাস্তবে যেন মরণফাঁদ। টানা বর্ষণের পানিতে ভয়াবহ ধস ও ক্ষয়ে এখন বিপর্যস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-নবীনগর-আশুগঞ্জ মহাসড়ক।
৪২১ কোটি টাকার প্রকল্প বেড়ে ৬০৪ কোটিতে দাঁড়ালেও শেষ হয়নি দুর্ভোগ, বরং প্রতিবছর বৃষ্টিতেই নতুন করে তৈরি হচ্ছে নির্মাণের দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘসূত্রতার ভয়াবহ চিত্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, নবীনগর-কৃষ্ণনগর এলাকায় ৬০ ফুট প্রশস্ত সড়কের প্রায় ৫৫ ফুটই ধসে গেছে। বৃষ্টির পানিতে মাটি সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গর্ত। যেকোনো মুহূর্তে সম্পূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো যাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগী ও পরিবহন শ্রমিক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং তদারকির চরম অভাবের কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের এমন করুণ অবস্থা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দৃশ্য দেখা যায়, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের নামে চলে শুধু আশ্বাস আর সময়ক্ষেপণ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নবীনগর-আশুগঞ্জ মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৭ সালে ৪২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমোদন পায়। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, ধীরগতির কাজ এবং প্রশাসনিক নানা জটিলতায় বছরের পর বছর আটকে থাকে প্রকল্পের কাজ। পরে আরও ১৮৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৬০৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকায়। তবুও শেষ হয়নি কাজ।
ইতোমধ্যে তিন দফা সময় বাড়ানো হয়েছে, আর এখন চলছে চতুর্থ দফায় আরও দুই বছর সময় বৃদ্ধির প্রক্রিয়া। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এদিকে শনিবার বেলা ১১টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান।
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, “সড়কের বেহাল অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্মাণকাজের কারণে যাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হবে, এবং বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার আশ্বাস দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ হোসেন রাজু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সোহেল, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম আমির, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ ইলিয়াস আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।