রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬ ১৫:৩০ পিএম
আপডেট : ০২ মে ২০২৬ ১৫:৩৭ পিএম
নিহত নুসরাত জাহান সুমাইয়া। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে নুসরাত জাহান সুমাইয়া (২১) নামে কলেজপড়ুয়া স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার সকালে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলম।
এর আগে শুক্রবার রাতে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরকাদিরা এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুমাইয়া হাজিরহাট এলাকার আবুল কালাম হায়দারের মেয়ে এবং স্থানীয় হাজিরহাট উপকূল সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনায় তার স্বামী সজিব আহমেদ জয় (২৫)কে আটক করা হলেও শাশুড়িসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
সুমাইয়ার পরিবারের অভিযোগ, একই কলেজে পড়ার সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং প্রায় আড়াই বছর আগে আদালতের মাধ্যমে তারা বিয়ে করেন। তবে জয়ের পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়নি।
এরপর থেকে সুমাইয়াকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার বৈঠকও হয়েছে বলে দাবি সুমাইয়ার পরিবারের।
নিহতের পরিবার আরও দাবি করে, শুক্রবার বিকালে জয় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সুমাইয়ার মরদেহ আমাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে প্রথমে অসুস্থতার কথা বলেন।
পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সুমাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন এরপর জয় তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান এবং সুমাইয়া গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার চালায় বলেও অভিযোগ করে নিহতের পরিবার।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং জয়কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের বাবা আবুল কালাম হায়দার দাবি করেন, পারিবারিক বিরোধ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে শাশুড়ি ও ভাসুর এজন্য সুমাইয়াকে দায়ী করেন। এনিয়ে তারা সুমাইয়াকে গালমন্দ করাসহ মেরে ফেলার হুমকিও দেয়।
এসবের প্রতিবাদ করায় স্বামীসহ শাশুড়ি, ভাসুর ও ভাসুরের স্ত্রী শ্বাসরোধ করে সুমাইয়াকে হত্যা করার পরে আত্মহত্যার অপপ্রচার চালায় বলেও অভিযোগ করেন নিহতে বাবা।
তিনি বলেন, মরদেহে গলায় নখের আঁচড়ের চিহ্ন রয়েছে, যা হত্যার ইঙ্গিত দেয়।
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ওসি মো. ফরিদুল আলম জানান, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে, বলেন ওসি।