খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬ ১৫:২৪ পিএম
আপডেট : ০২ মে ২০২৬ ১৫:২৮ পিএম
খুলনা প্রেসক্লাবে শনিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগর শাখা আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ৫ কোটি মানুষের দেওয়া রায়কে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে পাশ কাটানো হয়, তবে দেশ পুনরায় ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে শনিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগর শাখা আয়োজিত “গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, “সরকার বর্তমানে গভীর বিপদে আছে এবং এই সংকট তাদেরই তৈরি। তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে মানবে, কিন্তু একবারও বলছে না যে ৫ কোটি মানুষের গণভোটের রায় মানবে। অথচ গত ১২ ফেব্রুয়ারি ৫ কোটি মানুষ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে।”
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করেন, “জুলাই সনদে নিবন্ধিত ৩৩টি দল যে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে একমত হয়েছিল, তার মধ্যে ৪৭টি ছিল সরাসরি সাংবিধানিক ও আইনি সংস্কার। কিন্তু বিএনপি এর মধ্যে ১০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোট অফ ডিসেন্ট বা ভিন্নমত দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি কেন গণভোটের কথা বলছে না? কারণ গণভোটের ব্যালটে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কোনও ভিন্নমতের সুযোগ ছিল না। ৭০ ভাগ মানুষ সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে বিএনপির আপত্তিগুলোকে খারিজ করে দিয়েছে। ৩ কোটির বেশি ভোট পাওয়া কোনো দল ৫ কোটি মানুষের রায়ের কাছে পরাজিত হতে পারে না।”
সংবিধানের ৭ ধারার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সংসদ সার্বভৌম নয়, বরং জনগণের অভিপ্রায়ই সার্বভৌম। ৫ কোটি মানুষের গণভোট হলো সরাসরি ক্ষমতা, আর এমপিরা ভোগ করছেন ডেলিগেটেড পাওয়ার।”
সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “বল এখন বিএনপির কোর্টে। জনগণের রায় যদি সংসদে নিষ্পত্তি না হয়, তবে জুলাইয়ের মতো আরেকটি রক্তাক্ত পরিণতির দায় সরকারকেই নিতে হবে। ৫ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ে আমরা পুনরায় রাজপথের আন্দোলনে ফিরে যেতে দ্বিধা করব না।”
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগর আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি ড. মো. জাকির হোসেন, খুলনা জেলা আমির মাওলানা ইমরান হোসাইন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম এবং ছাত্রশিবির খুলনা মহানগর সভাপতি মো. রাকিব হাসান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন ড. মো. তরিকুল আহমাদ তোহা এবং দলীয় সংগীত পরিবেশন করে টাইফুন শিল্প গোষ্ঠী।