মে দিবস
মাশরুর মুর্শেদ, খুলনা
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬ ২২:১৫ পিএম
আপডেট : ০১ মে ২০২৬ ২২:২৩ পিএম
খুলনায় মে দিবসেও কাজ করছেন শ্রমজীবীরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শহরের রাস্তায় রঙিন ব্যানার, মাইকে অধিকার আদায়ের জোরালো স্লোগান আর শ্রমিক সংগঠনের বর্ণাঢ্য র্যালি—সব মিলিয়ে মে দিবসে খুলনা জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
তবে এই উৎসবের ডামাডোলের আড়ালে চাপা পড়ে আছে ভিন্ন এক বাস্তবতা। পেটের দায়ে ও জীবিকার তাগিদে ছুটির দিনেও বিরামহীন কাজ করে চলেছেন হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। মহান মে দিবসে যখন শ্রমিকের অধিকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে উচ্চকণ্ঠ দাবি উঠছে, তখন জীবন সংগ্রামের কঠিন বাস্তবতায় সেই অধিকার অনেকের কাছেই ‘বিলাসিতা’।
খুলনা নগরীর
প্রধান প্রধান সড়কে শুক্রবার সকালে শ্রমিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে বড় বড় র্যালি বের করা
হয়। সমাবেশে শ্রমিক নেতারা ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের
দাবি জানান। কিন্তু সমাবেশের পাশ দিয়েই রিকশার প্যাডেলে জীবনের ভার টানছিলেন মধ্যবয়সী
আজহার। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “আজকে তো মে দিবস, কিন্তু আমাদের জন্য আলাদা কোনো দিন নাই। একদিন কাজ না করলে পরিবার
না খেয়ে থাকে”।
একই চিত্র দেখা গেল নগরীর বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে। তপ্ত রোদে ঘাম ঝরাচ্ছিলেন নির্মাণ শ্রমিক জাবেদ। তিনি বলেন, “যে মজুরি পাই, তাতে সংসার ঠিকমতো চলে না। বাজারের দাম বাড়ছে, কিন্তু আমাদের আয় বাড়ে না”।
এদিকে মে দিবসে নগরীর অধিকাংশ মার্কেট ও বিপণিবিতান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও ব্যতিক্রম দেখা গেছে খুলনার নিউ মার্কেটে। সরেজমিনে দেখা যায়, মার্কেটটি খোলা ছিল এবং কর্মচারীরা নিয়মিত দিনের মতোই কাজ করছেন। ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। নিউ মার্কেটের কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা প্রথমে অনাগ্রহ দেখান। পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, “ছুটি থাকলে তো সবারই ভালো লাগত। কিন্তু কাজ না করলে মাস শেষে বেতন কাটা যেতে পারে, সেই ভয়ে কাজে এসেছি”।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, কেবল নিউ মার্কেট নয়, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অনানুষ্ঠানিক খাতের অনেক শ্রমিকই জানেন না তাদের ছুটির অধিকার বা মে দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য। তাদের কাছে মে দিবস মানে কেবলই অন্য আট-দশটা কর্মমুখর দিনের মতো।
শ্রমিকদের এই বঞ্চনা প্রসঙ্গে নাগরিক সমাজ নেতা অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, প্রয়োজন কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন ও তদারকি। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি”।