মধুপুর গড়
মোহাম্মদ নাজিবুল বাশার, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৮ এএম
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৭ পিএম
মধুপুরে বাগান থেকে বাজার পর্যন্ত কলায় রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের লাল মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কৃষক ও ভোক্তাদের অভিযোগ, অধিক লাভের আশায় কিছু অসাধু চাষি ও ব্যবসায়ী আকারে বড় ও আকর্ষণীয় করতে এবং দ্রুত পাকাতে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। এতে জনস্বাস্থ্য, মাটির উর্বরতা এবং পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, মধুপুরের উর্বর মাটি কৃষি ফসল চাষের জন্য বিখ্যাত হলেও বর্তমানে বাণিজ্যিক কলা চাষে ঐতিহ্য বদলে যাচ্ছে। আনারসের পর এখানকার দ্বিতীয় প্রধান অর্থকরী ফসল কলা হলেও এখন দ্রুত লাভের আশায় অপরিপক্ব কলা বাজারজাত এবং দ্রুত পাকানোর জন্য রাসায়নিকের ব্যবহার বেড়ে গেছে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাগান থেকে বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে নিয়ম না মেনে কলায় রাসায়নিক স্প্রে করা হচ্ছে। গাড়িতে ওঠানোর আগেই প্রকাশ্যে পাকানোর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, আবার বাজারজাতের পরও দ্রুত পাকানোর জন্য একই ধরনের রাসায়নিক প্রয়োগ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে জাঙ্গালিয়া, ভুটিয়া, পীরগাছা, থানার বাইদ, হরিণধরা, ককাকড়াগুনি, সাইনামারি, নয়নপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম এবং জলছত্র বাজারে একই চিত্র দেখা গেছে।
অনেক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা দৈনিক মজুরিতে কাজ করলেও রাসায়নিক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানেন না এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও অজ্ঞ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও মধুপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত ফলমূল গ্রহণ করলে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রকিব আল রানা বলেন, কিছু অসাধু চাষি ও পাইকার অধিক মুনাফার জন্য কলা চাষে নিয়মবহির্ভূতভাবে রাসায়নিক ব্যবহার করছেন, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, সভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং লাল মাটির ঐতিহ্যবাহী এই ফসলের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় কলাসহ সব ধরনের ফসলে ক্ষতিকর রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।