দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ
মনিরুজ্জামান বাবলু, চাঁদপুর
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৪ এএম
নিষেধাজ্ঞা শেষে জাল-নৌকা নিয়ে নদীতে নামতে প্রস্তুত চাঁদপুরের জেলেরা। জাল ও নৌকা মেরামত করে নদীতে নামার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জাটকা সংরক্ষণে দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে নামতে প্রস্তুত চাঁদপুরের প্রায় অর্ধলক্ষ জেলে।
জেলার চরভৈরবী থেকে ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার পদ্মা-মেঘনা নদী এলাকায় মাছ ধরার প্রস্তুতি শেষ করেছে তারা।
জেলা প্রশাসনের দাবি, এ নিষেধাজ্ঞার ফলে চলতি মৌসুমে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেরা জাল ও নৌকা মেরামত করে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে। অনেকেই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে নতুন আশায় জাল ফেলতে যাচ্ছে।
জেলেদের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিকে কিছুটা শিথিলতা থাকলেও শেষ দিকে প্রশাসনের কড়াকড়ি অভিযান ছিল উল্লেখযোগ্য। এখন তাদের প্রত্যাশা, জালে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লে ঋণের চাপ কমবে এবং পরিবারে স্বস্তি ফিরে আসবে।
চাঁদপুরের বহরিয়া জেলেপাড়ার জেলে মো. শাহাজাহান মিয়া বলেন, সামনে পূর্ণিমা এবং বৃষ্টিও হচ্ছে—যা ইলিশ ধরার জন্য অনুকূল সময়। তবে ঋণের চাপ নিয়ে নদীতে নামতে হচ্ছে, মাছ না পেলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিবন্ধিত ৩৯ হাজার ৪০০ জেলের জন্য চার মাসে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় পদ্মা-মেঘনার জাটকা প্রবণ এলাকায় প্রথমবারের মতো প্রায় সাড়ে ৮ হাজার জেলেকে অতিরিক্ত খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ সহায়তা প্যাকেজে ছিল ১০ লিটার সয়াবিন তেল, ১২ কেজি আটা, ১৬ কেজি আলু, ৪ কেজি চিনি, ৪ কেজি লবণ এবং ৮ কেজি মসুর ডাল।
ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে জেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং জেলা টাস্কফোর্স যৌথভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করেছে।
এই সময়ে ৫ শতাধিক অভিযান পরিচালনা, ৫০টির বেশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং ২ শতাধিক জেলেকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অসাধু জেলেদের নদীতে নামা অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হয়েছে, যা ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
২০০৬ সাল থেকে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রমে জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। এ সময়ে মাছ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে।