শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪১ এএম
রিয়াদে দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী রনি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সৌদি আরবের রিয়াদে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মো. রনি মিয়া নামে এক প্রবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
মৃত্যুর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না হওয়ায় পরিবার চরম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।
রনির বড় ভাই প্রভাষক মো. মনিরুজ্জামান ২৮ এপ্রিল ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে মরদেহ দেশে আনার জন্য আবেদন করেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
নিহত রনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
সৌদি প্রবাসী রনি ২১ এপ্রিল সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। বর্তমানে তার মরদেহ রিয়াদের আল-হায়াত মেডিক্যাল হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে।
উন্নত জীবনের আশায় সৌদিতে পাড়ি জমান রনি
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, উন্নত জীবনের আশায় ২০২৪ সালে ফুড ডেলিভারি কাজের জন্য সৌদি আরবে পাড়ি জমান রনি। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেশে ফিরে আসেন।
পরে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে শ্রমিক ভিসায় পুনরায় সৌদিতে যান রনি এবং একই ধরনের কাজে যুক্ত হন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই তার মৃত্যু হয়, জানায় তার পরিবার।
মনিরুজ্জামান জানান, ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠাতে পরিবারকে প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে। প্রথমবার আহত হয়ে ফিরে আসায় কোনো অর্থ উপার্জন করতে পারেননি রনি।
পরবর্তীতে আবার বিদেশে পাঠাতে পরিবার নতুন করে ঋণের বোঝা নেয়। বর্তমানে মরদেহ দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সুপারভাইজার এবং লাশ হস্তান্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. আফতাব উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, বলেন তিনি।
নিহতের বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছেলের ভবিষ্যতের আশায় অনেক কষ্টে তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এখন অন্তত শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ চান তিনি।
মরদেহের অপেক্ষায় দিন গুনছেন স্বজনরা
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রকিব বাদশা বলেন, রনির মৃত্যুতে পুরো পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে। তার মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান মরদেহের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
স্থানীয় সংগঠন ‘ভয়েজ অব ঝিনাইগাতী’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জাহিদুল হক মনির বলেন, রনির পরিবার ও আমাদের স্থানীয়রা সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলের নিকট এ ব্যপারে অবগত করেছে। আমাদের আশা, দ্রুতই সরকারি উদ্যোগে রনির মরদেহ দেশে আনা হবে।
শেরপুর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. লেহাজ উদ্দিন বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।
এ বিষয়ে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। পাশাপাশি তিনি নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।