× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘ভাবতে পারিনি আমরা বাঁচব’

মিলাদ হোসেন অপু, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩৫ এএম

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩৮ এএম

চলন্ত ট্রেনের নিচে শিশুপুত্রকে বালিশের মতো জড়িয়ে ধরে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন বাবা জহিরুল ইসলাম সোহান। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

চলন্ত ট্রেনের নিচে শিশুপুত্রকে বালিশের মতো জড়িয়ে ধরে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন বাবা জহিরুল ইসলাম সোহান। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

চলন্ত ট্রেনের নিচে শিশুপুত্রকে নিয়ে বালিশের মতো জড়িয়ে ধরে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা বাবা জহিরুল ইসলাম সোহান এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। তিনি বুধবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ট্রেনটি আমাদের ওপর দিয়ে চলে যাওয়ার ওই কয়েক সেকেন্ড মনে হয়েছিল আমরা বাঁচব না। ছেলেও মনে হয় আর পৃথিবীর আলো দেখতে পাবে না। একটার পর একটা বগি প্রচণ্ড শব্দে আমাদের শরীরের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। আল্লাহর রহমতে দ্বিতীয় জীবন পেয়েছি আমরা।

সোহান ওইদিনের (মঙ্গলবার দুপুর) ঘটনার বর্ণনায় জানান, তিনি ৩০ এপ্রিল (আজ) ওমানের উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করবেন। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভৈরব থেকে তিতাস কমিউটার ট্রেনে ঢাকায় যাওয়ার জন্য স্টেশনে আসেন। ট্রেনে ওঠার পর তার মনে পড়ে পাসপোর্টই সঙ্গে আনতে ভুলে গেছেন। তড়িঘড়ি করে ট্রেন থেকে নামতে চান স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে। এ সময় ট্রেন ছেড়ে দেয়। স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার প্রথমে নামার সময় ট্রেনের হাতল ধরতে গিয়ে হাত ফসকে প্লাটফর্মে পড়ে যান। তার পেছনে থাকা দেড়  বছরের শিশুসন্তান সৌরভ পড়ে গিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে চলে যায় ট্রেনের নিচে। ছেলেকে বাঁচাতে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য প্রায় সোহান ট্রেনের নিচে নেমে পড়েন। ছেলেকে বালিশের মতো জাপটে ধরে শুয়ে পড়েন তিনি। এক এক করে ১১টি বগি তাদের ওপর দিয়ে যাওয়ার পর বেঁচে ফেরেন সন্তানসহ সোহান। বেঁচে যাওয়ার অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার সময় কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে বাবা জহিরুল ইসলাম সোহানের (৩২)। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার লোহাজুড়ী ইউনিয়নের চরকাউনিয়া বাজার এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে সোহান। ভৈরব রেলওয়ে জংশনের ১নং প্লাটফর্মে সিগন্যাল অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা তিতাস কমিউটার ট্রেন ১ ঘণ্টা বিলম্বে ২টা ৫৩ মিনিটে ঢাকায় উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এ সময় কটিয়াদীর এই দম্পতি তাদের দেড় বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে ট্রেনে ওঠেন। হঠাৎ তারা নামতে গেলে প্রথমে শিশুটির মা পড়ে যান। পরে শিশুটিও পড়ে যায়। এরপর শিশুটি ট্রেনের নিচে চলে যায়। ছেলেকে বাঁচাতে তার বাবাও দ্রুত ট্রেনের নিচে চলে যান। এক এক করে বগিগুলো চলে গেলে বাবা-ছেলে অক্ষতই থাকেন। 

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ফালু মিয়া বলেন, আমি তিতাস কাউন্টারে কাজ করি। ট্রেনটি যখন ছেড়ে দেয় তখন দেখতে পাই কেউ একজন ট্রেনের নিচে পড়ে গেছে। দৌড়ে গিয়ে দেখি একজন ব্যক্তি তার ছেলেকে জড়িয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে আছে। তার স্ত্রীও ট্রেনের নিচে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তখন আমিসহ অন্যরা তাকে টেনে ধরি। এক অলৌকিক ঘটনার মধ্য দিয়ে শিশুটি ও তার বাবা বেঁচে যায়। এমন ঘটনায় কেউ বেঁচে উঠতে পারে ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি। চোখের সামনে বাবা-ছেলে দুইজনই বেঁচেছে! 

প্লাটফর্মে থাকা দোকানি সোহেল মিয়া বলেন, ঘটনাটি দেখে খুব আতঙ্কে ছিলাম। রাখে আল্লাহ মারে কে? এটাই বুঝতে পেরেছি। 

জহিরুল ইসলাম সোহান বলেন, এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল বাবা হিসেবে মনে হয় ছেলেকে আর বাঁচাতে পারব না। তারপরই চলে যাই ট্রেনের নিচে। ভাবতে পারিনি বেঁচে যাব। ঘটনার পর নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি। আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ১০ বছর ধরে ওমানে বসবাস করছি। কয়েক বছর আগে দেশে এসে বিয়ে করেছি। দেড় বছর আগে আমাদের ছেলে হয়। স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার পর ওমান চলে গেছিলাম। গত জানুয়ারিতে দেশে এসেছি। ৪ মাস পর আবারও চলে যাচ্ছি। এজন্যই ছেলে ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। তারপরের বিষয়টি আপনারা জেনেছেন।

বুধবার সকালে সোহান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফের ঢাকায় এসেছেন। এ প্রতিবেদন যখন পাঠক পড়ছেন ততক্ষণে তিনি ওমানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।

এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ বলেন, সিসি ক্যামেরা ফুটেজ থেকে যতটুকু জেনেছি। ট্রেনটি ছাড়ার সময় দম্পতি তাদের সন্তানকে নিয়ে নামতে যায়। যাত্রীদের সচেতনতার অভাব রয়েছে। বাবা সন্তান বেঁচে যাওয়ায় আমরা অনেক খুশি হয়েছি। 

রেলওয়ে থানার এসআই আফজাল হোসেন বলেন, মানুষকে ট্রেনে যাতায়াত করতে গেলে সচেতনতার সঙ্গে ট্রেনে ওঠানামা করতে হবে। স্টেশন প্লাটফর্মে বাবা ছেলে বেঁচে যাওয়ার ঘটনাটি অলৌকিক।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা