হবিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১১ পিএম
আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১৬ পিএম
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় হবিগঞ্জের চা শিল্প বর্তমানে সংকটের মুখোমুখি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
হবিগঞ্জের চা শিল্প বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাট ও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে জেলার ২৩টি চা বাগানে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এতে একদিকে উৎপাদন কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে বাগান মালিক ও শ্রমিকরা পড়ছেন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হবিগঞ্জে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
অনেক সময় এর চেয়েও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে চা বাগানগুলোকে। ফলে গাছ থেকে সংগ্রহ করা চা পাতা সময়মতো প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না, বলেন তারা।
চা উৎপাদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাতা শুকানো, রোলিং এবং চূড়ান্ত ড্রায়িং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এসব ধাপে সামান্য ব্যত্যয় ঘটলেই চায়ের মান নষ্ট হয়ে যায়।
কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় এসব কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাঁচা চা পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং বাগান কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে তা ফেলে দিচ্ছেন। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ক্ষতি গুনতে হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
পাশাপাশি চা শিল্প একটি শ্রম নির্ভর খাত, যেখানে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা নির্ভরশীল। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তাদের আয়ের ওপরও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। এতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে।
‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন সময়ের দাবি’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের চা শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।
জগদীশপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মনির হোসেন বলেন, “চা উৎপাদন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে চায়ের মান থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের মাঝপথে কাজ বন্ধ করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, বিকল্প হিসেবে জেনারেটর থাকলেও ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে তা নিয়মিত ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানের ম্যানেজার শামসুল হক ভূঁইয়া বলেন, “চা শিল্প সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎনির্ভর। বিদ্যুৎ না থাকলে পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। এতে শুধু মালিক নয়, শ্রমিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন বলেন, “উৎপাদন খরচ দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু বাজারে চায়ের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি। তার ওপর দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে চা শিল্প বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।