বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪১ পিএম
শরিয়ত উল্লাহ। ফাইল ছবি
দোহারে জুলাই আন্দোলনে হামলা মামলায় বিএনপির এক সক্রিয় কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
দোহার থানা পুলিশ গত রবিবার রাতে তাকে আটকের পর ছাত্রজনতার ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।
গ্রেপ্তার শরিয়ত উল্লাহ দোহারের মুকসেদপুর ইউনিয়নের ফুলতলা গোড়াবন এলাকার বাসিন্দা। তিনি ২০১৮ সালে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে দায়ের হওয়া একটি মামলায় কারাভোগ করেছেন।
শরিয়ত উল্লাহর ছোট ভাই রবিউল আউয়াল বলেন, “২০১৮ সালে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে দোহার থানায় দায়ের হওয়া মামলায় ২৫ নম্বর এজাহার নামীয় আসামি ছিলেন শরিয়ত উল্লাহ। গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন অনেকদিন। এখন আবার আওয়ামী দোসর তকমা দিচ্ছে। তার বড় ভাই একজন শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে তিনি ব্যবসা করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার ইটের ভাটা ও জাহাজ ব্যবসা বন্ধ করে দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের লোকজন।”
বিএনপির বিভিন্ন সভা সমাবেশে ও নির্বাচনি প্রচারে শরিয়ত উল্লাহর উপস্থিতির বেশ কিছু স্থিরচিত্র দেখিয়ে তার স্ত্রী শাহিনুর হোসাইন বলেন, “আমার স্বামীর উপর কেন জুলুম করা হচ্ছে। বিগত সরকার আমলেও তিনি ঘরে থাকতে পারেননি। ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তৎকালীন এমপির ইশারায় ইটভাটা বন্ধ করে এক বছরের সাজাও দেয়।”
তাদের দাবি- একটি মহল প্রতিহিংসা পরায়নবশত তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করছে।
দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বলেন, “তিনি (শরিয়ত উল্লাহ) সব সময় বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। তবু কেন পুলিশ এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করছে তা বোধগম্য নয়।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের এক জেষ্ঠ্য নেতা বলেন, “শরিয়ত উল্লাহ কখনই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না, তিনি মূলত বিএনপির কর্মী। তিনি এক সময় শিক্ষকতা করতেন। এখন দলিল লেখক ও ইট বালুর ব্যবসায়ী।”
তবে পুলিশ বলছে, তার কোনও রাজনৈতিক পদপদবির পরিচয় পাওয়া যায়নি বা গ্রেপ্তার দেখানো জুলাই মামলার এজহারে তার নামও ছিল না। শরিয়ত উল্লাহ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করেছেন। তার বিরুদ্ধে পদ্মা পাড়ে বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। তিনি আওয়ামী দোসর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক মুঠোফোনে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্রজনতার ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলায় শরিয়ত উল্লাহকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
মামলার অভিযোগ বা এজহারে নাম নেই- এমন একজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে মুঠোফোনে সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দোহার সার্কেল) শামীম হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, এই ঘটনা তিনি অবগত নন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।