কালবৈশাখীর তাণ্ডব
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:১৯ পিএম
ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অভিযোগ কেন্দ্রও ক্ষতির শিকার হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় টানা চার দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
এর আগে শনিবার রাতের ঝড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় পুরো উপজেলা কার্যত অন্ধকারে ডুবে যায়।
এর পর উপজেলার কিছু অংশে ২৩ ঘণ্টা পর সীমিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হলেও অধিকাংশ এলাকায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (দুপুর ১টা ২০) বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন সম্ভব হয়নি।
ফলে মাধবপুর, ইসলামপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অভিযোগ কেন্দ্রও ক্ষতির শিকার হয়। এরপর থেকেই টানা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চা শিল্প
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চা শিল্প। উপজেলার অধিকাংশ চা বাগানে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
পরিস্থিতি এমন যে রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির পর সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কমলগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল সড়কের বটতলা এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত লাইন মেরামত করে বিদ্যুৎ চালুর দাবি জানান।
ভোগান্তিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা
বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। কুপির আলোয় রাত জেগে পড়াশোনা করতে হচ্ছে তাদের, যা স্বাস্থ্য ও প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
বালিগাঁও গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী তুষ্টি পাল বলেন, দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ না থাকায় কষ্টে পড়তে হচ্ছে। কুপির আলোয় পড়াশোনা করতে গিয়ে চোখে ব্যথা হচ্ছে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।
বন্ধ ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রম
এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে জরুরি সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছ পড়ে ও খুঁটি-ইনসুলেটর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বড় ধরনের ত্রুটির কারণে মেরামতে সময় লাগছে, তবে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, বলেন তিনি।