কুমিল্লা অফিস
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৪ এএম
আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৭ এএম
মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই মঙ্গলবার জলাবদ্ধতায় অচল হয়ে পড়ে কুমিল্লা নগরী। একই সময়ে জেলার বরুড়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় টানা তিন দিন বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই মঙ্গলবার জলাবদ্ধতায় অচল হয়ে পড়ে কুমিল্লা নগরী। একই সময়ে জেলার বরুড়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় টানা তিন দিন বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মেরামত কার্যক্রম বুধবার শুরু হলেও এখনও উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন গালিমপুর, ভাউকসার, আগানগরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে দিন-রাত দুর্ভোগে কাটছে গ্রামবাসীর জীবন।

অন্যদিকে, বৃষ্টির পানিতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চলে হাঁটুসমান জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষাবোর্ড, ভিক্টোরিয়া কলেজ, মেডিক্যাল কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পানিবন্দি হয়ে পড়ে।
ঠাকুরপাড়া, রেইসকোর্স, মুরাদপুর, মনোহরপুর, বিসিক এলাকা, রানীরবাজার, আদালতপাড়া, হাউজিং এস্টেট ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে যায়। নিচু এলাকার বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে।
প্রায় হাঁটুসমান পানিতেই নেওয়া হয় পরীক্ষা
জলাবদ্ধতার কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশা বা অটোরিকশায় যাতায়াত করতে বাধ্য হন।
এদিকে মঙ্গলবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সংলগ্ন ঈশ্বর পাঠশালা স্কুলের এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের প্রায় হাঁটুসমান পানির মধ্যে বসে পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে। অনেকেই বেঞ্চের ওপর পা তুলে পরীক্ষা দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নালা-নর্দমায় আবর্জনা জমে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতি বছর বর্ষায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও স্থায়ী সমাধান নেওয়া হয়নি।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, বাইরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় পানি বোর্ডের ভেতরে ঢুকে পড়ছে। দ্রুত ড্রেন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বরুড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং তা পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও দক্ষতার ঘাটতির কথাও তারা উল্লেখ করেন।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন এলাকায় গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে মেরামত কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

বরুড়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম রীশু কুমার ঘোষ জানান, ঝড়ে ৮টি খুঁটি ভেঙে গেছে, ১০টি কাত হয়ে পড়েছে এবং প্রায় ৩০০টি গাছ উপড়ে পড়েছে। এতে ৪০টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৩টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে এবং অন্তত ৩০০ স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে।
বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় সীমিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে এবং বাকিগুলো দ্রুত সচল করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কুমিল্লায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন জানায়, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ড্রেন ও খালের পানি প্রবাহ ধীর হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পানি অপসারণে কাজ চলছে এবং নালা-নর্দমা পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই প্রতিবেদন লেখা সময় (সকাল ১০টা ৪০ মিনিট) পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীসহ বরুড়া, লাকসাম ও লালমাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।