টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪৮ পিএম
ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল। ছবিঃ সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের সখিপুরে দুই দিনে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে ১০ শিশু ও ১২ নারীসহ ৫৪ জন আহত হয়েছে।
আহত প্রত্যেককে সখিপুর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে
গুরুতর অবস্থায় থাকা একজনকে ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের
চিকিৎসক ও ভুক্তভোগীরা জানান, সখিপুর পৌর এলাকাসহ উপজেলার ১৫ থেকে ২০টি গ্রামে হানা
দেয় একটি জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুর। রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত কুকুরটি অর্ধশতাধিক মানুষকে
কামড়ায়।
কুকুরের কামড়ে যেসব গ্রামের
মানুষ আহত হয়েছে, সেগুলো হলো সখিপুর পৌর শহরের সানবান্দা, বিজ্ঞানাগার, বাগানচালা,
ময়থাচালা, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কানার মোড় এলাকা এবং দেবলচালা, আন্ধি, কালিয়া, ঘোনারচালা,
কচুয়া, আড়াইপাড়া দামিয়া, হামিদপুর, বাঘের বাড়ি, জোয়াইরপাড়া, মহানন্দপুর ও কাহারতা।
হামলার শুরু যখন থেকে
স্থানীয়দের কাছ থেকে
জানা যায়, কালিয়া ইউনিয়নের দেবলচালা গ্রামের আবদুর রশিদ, কয়েকজন নারী ও শিশুকে রবিবার
বেলা দুইটার দিকে কামড়িয়ে সখিপুর পৌর শহরের দিকে ঢোকে কুকুরটি। এরপর আন্ধি থেকে পৌর
শহরের কানার মোড় পর্যন্ত কমপক্ষে ২০ জনকে কামড় দেয় প্রাণীটি। কুকুরটি দৌড়ে রবিবার রাত
১০টার দিকে কাহারতা গ্রাম হয়ে কচুয়া চলে যায়।
এরপর সোমবার সকালের দিকে
কুকুরটি কালিয়া, ঘোনারচালা ও সর্বশেষ দামিয়া গ্রামের বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুকে কামড়ায়।
কুকুরের কামড়ে গুরুতর
আহত আবদুর রশিদকে ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা
আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপসহকারী
কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান।
হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার
সময় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কথা হয় কালিয়া ঘোনারচালা গ্রামের খন্দকার হাবিবুর রহমানের
সঙ্গে। তিনি বলেন, “সকালে আমি আমার নাতনিকে স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলাম। বাড়িতে ফেরার পথে কোনো কিছু বুঝে
ওঠার আগেই কুকুর এসে আমার নাতনিকে কামড় দেয়। বাধা দিতে গেলে আমাকেও কামড় দেয়। চিৎকারে
লোকজন ছুটে এলে কুকুর তাদেরও কামড়ায়”।
একই গ্রামের মেহেরান
বেগম নামের আরেক আহত নারী বলেন, “ইয়ামিন নামের দুই বছরের নাতনিকে কোলে নিয়েছিলাম। এ সময় কুকুরটি লাফ দিয়ে নাতনিকে
কামড় দেয়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আমাকেও কামড় দেয়।’
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক
শামীমা আহমেদ বলেন, প্রত্যেককে একাধিক স্থানে কুকুর কামড়িয়েছে। কামড়ের ক্ষতগুলো বেশ
গভীর। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে বয়স্ক নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে।
সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য
ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহেনা পারভীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “পাগলা কুকুরের আক্রমণের শিকার এ পর্যন্ত ৫৪ জন আহত
রোগী আমাদের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছে”।