কুমিল্লা অফিস
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৭ পিএম
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০০ পিএম
এ আই জেনারেটেড/প্রতীকী ছবি
কুমিল্লার লালমাইয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় রবিবার সন্ধ্যা থেকে অর্ধলক্ষ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
সরজমিনে দেখা যায়, ঝড়ে উপজেলার বেলঘর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন, ভূলইন উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন এবং পেরুল উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের দৌলতপুর, বরল, কানিয়া পুকুরপাড় ও বলিপদুয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় রবিবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, “এমনিতে বিদ্যুৎ পাই দিনে ২ থেকে ৩ ঘন্টা, কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবের পর থেকে অনবরত বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎতের দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপন করা জরুরি”।
জয়নগর এলাকার বাসিন্দা সাকিবুর মিয়া জানান, দীর্ঘক্ষন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, “মোবাইল চার্জ দিতে না পারায় কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। পল্লী বিদ্যুতের উচিত জনবলসহ টেকনিক্যাল সাপোর্ট বাড়িয়ে দ্রুত কাজ শেষ করা”।
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাগমারা অঞ্চলের ডিজিএম সৌরাভ উদ্দীন সাদী জানান, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছপালা বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ায় অনেক জায়গায় তার ছিঁড়ে গেছে এবং খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের কর্মীরা রবিবার রাত থেকেই মাঠে কাজ করছেন। ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় লাইন মেরামত করতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে”।
বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ও অন্ধকারে হাজারো মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত লাইনগুলো মেরামত করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবি এলাকাবাসীর।