ভোলা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:১৭ পিএম
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:০৩ পিএম
ভোলার মেঘনা নদীতে রবিবার ডুবে গেছে তেলবাহী জাহাজ সাগর নন্দিনী-২। ছবি : প্রবা
ভোলার মেঘনা নদীতে ডুবে যাওয়ার চার দিন পর কার্গো জাহাজ সাগর নন্দিনী-২ উদ্ধারের কাজ প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়া এবং উদ্ধারকারী জাহাজ দেরিতে পৌঁছানোর কারণে উদ্ধারকাজে তেমন অগ্রগতি হয়নি। বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) উদ্ধারকারী জাহাজ (বার্জ) জোহুর উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। অপর উদ্ধারকারী জাহাজ হুমায়রা বিকাল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
উদ্ধারকারী এই জাহাজটি দেরিতে পৌঁছানোর কারণে ডুবে থাকা জাহাজটিকে পানির তলদেশ থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
পুরোপুরি উদ্ধার শেষ হতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক আব্দুল্লাহ আল বাক্বী।
তিনি বলেন, ‘পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের চেষ্টা করছি।’
এদিকে পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষায় সকাল থেকেই কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের একটি দল ল্যামর মেশিন দিয়ে বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার করে নদী থেকে তেল অপসারণ করছে।
কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আকিফ খান রিদম বলেন, ‘জাহাজের নিরাপত্তা, তেল অপসারণ এবং উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে কোস্ট গার্ড। উদ্ধার শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাহিনীটি নিয়োজিত থাকবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জাহাজ উদ্ধারে বিআইডব্লিউটিএ, কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশের একটি টিম উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।’
দ্রুত জাহাজটি উদ্ধার করা না গেলে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা করছেন ভোলাবাসী।
শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সাড়ে ১১ লাখ লিটার তেল নিয়ে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে জাহাজ এমভি সাগরনন্দিনী-২। রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) ভোরে ভোলা সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে সেটি অন্য এক জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে জাহাজের তলা ফেটে মুহূর্তেই মেঘনায় তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
মৎস্য ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঘনায় জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর ছড়ানো তেল পরিবেশের ক্ষতি যা করার করে ফেলেছে। নদীর তেল ছড়িয়ে পড়বে সাগরে। এ ক্ষতির প্রভাব হয়তো আরও কিছুদিন পর বোঝা যাবে। ইলিশসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদনে এটি প্রভাব ফেলতে পারে। প্রভাব ফেলবে নদীর জীববৈচিত্র্যেও। এ ছাড়া সাগরে যাওয়ার পর সেটি আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে নদী ও সাগরের বাস্তুসংস্থানে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ‘নদীতে ছড়িয়ে পড়া তেল সাগরে গিয়ে পড়বে। এর ফলে সামনের মৌসুমে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজননে প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে নদী ও সাগরের বাস্তুসংস্থানে প্রভাব ফেলবে। তা ছাড়া জেলেদের স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এর আগেও বঙ্গোপসাগরে তেলবাহী জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে জলজ পরিবেশের। সরকারের উচিত জাহাজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে জাহাজডুবির কারণগুলো অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। বহির্বিশ্বেও এ ঘটনাটা প্রচার হবে। এতে দেশের ভাবমূর্তিতে প্রভাব পড়বে।’