ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:০৬ পিএম
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১৯ পিএম
কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ফেনীর একটি এলাকা। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ফেনীতে রবিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়া, বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়া এবং বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় জেলার অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রায় ১২ ঘন্টা পর সোমবার বিকাল ৩টা ০৬ মিনিটে যখন এই সংবাদটি লেখা হচ্ছে তখনও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি।
জানা গেছে, পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় ঝড়ের তাণ্ডব সবচেয়ে বেশি ছিল।
এসব এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে এবং জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
পরশুরামের গুথুমা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ট্রান্সফরমার মাটিতে পড়ে যায়। বাসপদুয়া ও নিজকালিকাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, ঝড়ে ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে। একাধিক স্থানে খুঁটি ভেঙে এবং গাছ পড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপনে কাজ চলছে।
ফুলগাজীতেও ঝড়ের তাণ্ডবে মুন্সীরহাট-নোয়াপুর সড়কে অন্তত পাঁচটি স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গাছ অপসারণে কাজ করছেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপজেলার সব ফিডারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত নয়।
সদর, দাগনভুঞা ও সোনাগাজীতেও ঝড়ের প্রভাবে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে পুরো জেলায় হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে এবং অনেক এলাকায় “ভুতুড়ে অন্ধকার” পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।