মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০৩ পিএম
কিশোরগঞ্জের ব্রাহ্মণকান্দি গ্রামের নিহত সৌদি প্রবাসী জামাল। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ।
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কিশোরগঞ্জের প্রবাসী শ্রমিক মো. জামালের মরদেহ দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা ও দালাল চক্রের বাধা পেরিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছে।
দীর্ঘ অপেক্ষা ও পরিবারের কঠোর লড়াই শেষে মরদেহটি নিজ গ্রাম কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ব্রাহ্মণকান্দিতে পৌঁছায়।
নিহত জামাল (৫০) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
পরে রাত ১টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহতের পরিবারের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জামাল দীর্ঘদিন সৌদি আরবের রিয়াদে পানির লাইনের কাজ করতেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইফতারের আগে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে জিজান শহরের আস-সাইর এলাকায় একটি দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন, বলেন তারা।
মরদেহ দেশে পাঠানো নিয়ে জটিলতা
দুর্ঘটনার পর মরদেহ দেশে পাঠানো নিয়ে শুরু হয় জটিলতা। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় কিছু দালাল মরদেহ পাঠাতে বাধা সৃষ্টি করে এবং পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করে। তারা দুর্ঘটনায় নিহতের আংশিক দোষ আছে বলে বিভ্রান্তিকর তথ্যও দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি মরদেহ ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফনের হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে পরিবারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত কোনো অর্থ ছাড়াই সরকারি উদ্যোগে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহায়তা নেওয়া হয়। পরে মরদেহ দেশে ফেরার পর পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
নিহতের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে মারিয়া আক্তার বলেন, তার বাবা ঈদের ছুটিতে দেশে ফেরার কথা ছিল এবং তার জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন। কিন্তু তিনি জীবিত ফিরে আসেননি, ফিরেছেন কফিনবন্দি হয়ে।
নিহতের স্ত্রী বলেন, দালালদের বাধা সত্ত্বেও তিনি স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।
এ কারেণে তিনি সরকারের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় নেতারা এ ঘটনার জন্য দালাল চক্রকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তা ও মেয়ের শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।