× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জ্বালানি ও শ্রমিক সংকটে দিশেহারা তানোরের কৃষকরা

সাইদ সাজু, তানোর (রাজশাহী)

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:০৬ পিএম

রাজশাহীর তানোরে কিছু কৃষক পাকা ধান ঘরে তুলতে পারলেও শ্রমিক ও জ্বালানি সংকটে মাঠে পড়ে আছে বেশিরভাগ কৃষকের ধান। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রাজশাহীর তানোরে কিছু কৃষক পাকা ধান ঘরে তুলতে পারলেও শ্রমিক ও জ্বালানি সংকটে মাঠে পড়ে আছে বেশিরভাগ কৃষকের ধান। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় জ্বালানি সংকট ও শ্রমিকের অভাবে মাঠে পড়ে আছে পাকা ধান। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধানের কম দাম ও বৈরী আবহাওয়া—সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

উপজেলার বিলপাড় এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে এরই মধ্যে ধান পেকে গেছে। কিন্তু শ্রমিক না পাওয়ায় সময়মতো ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে ধান পরিবহনের জন্য ট্রলি বা যানবাহনও মিলছে না। ফলে কৃষকরা দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন।

এর মধ্যে গত সপ্তাহের ঝড়-বৃষ্টিতে বিলের নিচু জমির অনেক ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এতে ধান কাটতে খরচ বেড়ে গেছে এবং অনেক শ্রমিক এমন জমিতে কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

এ অবস্থায় তীব্র গরম ও কালবৈশাখীর আশঙ্কা কৃষকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরিও ঠিকমতো ওঠে না। বর্তমানে ২৮ কেজির প্রতি মণ ধানের দাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং ৩৮ কেজির মণ ১১০০ থেকে ১১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি প্রায় ৮০০ টাকা। ফলে ধান কাটা আর্থিকভাবে ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে।

শাকিল, মিলন, এন্তাজ, নাদিম নামের কৃষকরা বলেন, শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বহিরাগত শ্রমিকরা না এলে ধান কাটা কষ্টকর।

ধান কাটা শ্রমিকদের মধ্যে যারা দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করে তারা সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ধান কাটে। এজন্য ৫০০ টাকা করে মজুরি দিতে হয়। আর চুক্তিভিত্তিক হলে বিঘায় ৫ মণ করে ধান দিতে হয়। কিন্তু ধানের দাম কম থাকায় এবার তাতেও  শ্রমিক মিলছে না, বলেন তারা।

কৃষক শাকির বলেন, কয়েকদিন ধরে শ্রমিকের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেও কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। কম মজুরিতে কাজ করতে না চাওয়ায় শ্রমিকরাও আসছেন না। আবার যারা কাজ করেন, তারা ধান বহনে আগ্রহী নন।

আরেক কৃষক সাহেব জানান, আগের বছরগুলোতে শ্রমিকরা আগেই এসে জমি দেখে যেতেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ধান পেকে গেলেও শ্রমিক সংকটের কারণে তা কাটা যাচ্ছে না। নুয়ে পড়া ধান কাটতে গেলে খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চান্দুড়িয়া, দমদমা, গাগরন্দ, হাড়দহ, জুড়ানপুর, কালীগঞ্জ, মাসিন্দা, হাবিবনগর, বুরুজ ও ভদ্রখণ্ডসহ বিভিন্ন গ্রামের বিলকুমারী বিলে প্রায় সব জমির ধান পেকে গেছে। তবে নিচু জমির অনেক ধান ইতোমধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।

কৃষকদের হিসাবে, বিঘাপ্রতি ধান উৎপাদনে মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৩ হাজার টাকা, যেখানে উৎপাদিত ধানের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২০ হাজার টাকা। ফলে প্রতি বিঘায় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর বিল এলাকায় আগাম বোরো ধানের চাষ হয়েছে এবং প্রায় সব জমির ধান পেকে গেছে। তিনি দ্রুত ধান কাটার তাগিদ দিয়ে বলেন, বৈশাখ মাসে যেকোনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা