এমপির প্রতিশ্রুতি রক্ষা
মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪২ এএম
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি মাজহারুল ইসলাম। ফাইল ছবি
কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ১৫ দিনব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানে কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলায় চিহ্নিত অর্ধশত মাদক কারবারিকে আটক করে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ফলে এই দুই থানায় অধিকাংশ মাদক কারবারি পালিয়ে গেছে। এলাকায় মাদকাসক্তদের সংখ্যাও কমে আসছে।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি মাজহারুল ইসলাম তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তার এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দুই থানার ওসিকে মাদকবিরোধী অভিযানে তৎপর হতে বলেন। এমপির নির্দেশনা ও কঠোর অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এবং হোসেনপুর থানা এলাকায় পুলিশের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট দুই থানার ওসিরা মাদক নির্মূলে জোরালো অভিযান পরিচালনা করছেন। এই অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল রবিবার পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মাদক কারবারি ও মাদকাসক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এমপি মাজহারুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, কিশোরগঞ্জ-১ আসনকে মাদকমুক্ত করতে তিনি বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে মাদক নির্মূল করতে হবে। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে কঠোর অবস্থান নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তিনি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে এ বিষয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম ভূঞা জানান, মাদক কারবারি ও তাদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ইতোমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই কথা বলেন, হোসেনপুর থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার সমাজে নানা ধরনের অপরাধ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করছিল। সাম্প্রতিক অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে।
এই অভিযানকে অভিনন্দন জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবদুল গণি বলেন, এই অভিযান যেন এককালীন পদক্ষেপ না হয় বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে থাকে। তার কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, মাদকবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আরও জোরদার করা হবে।