× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে শার্শার পথে প্রধানমন্ত্রী

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৬ এএম

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২১ এএম

খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আজ শার্শা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আজ শার্শা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

৫০ বছর আগে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নিজ হাতে কোদাল তুলে নিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তখন তার বয়স ছিল ৪০ বছর ৯ মাস। তিনি অনুধাবন করেছিলেন এদেশের কৃষক বাঁচলে দেশের মানুষ বাঁচবে। তাই সবার আগে তিনি ফসল উৎপাদন করে কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। এদেশের মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে প্রথমে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন তিনি। বাবার পথেই হাঁটছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আজ সোমবার যশোর জেলার শার্শার উলশী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও জনসভায় অংশগ্রহণের কর্মসূচি রয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী সোমবার সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে আকাশপথে যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি। যশোরে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শার্শা উপজেলার উলশী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই স্থানে আয়োজিত পথসভা বা সুধী সমাবেশেও যোগ দেবেন তিনি।

শার্শা থেকে ফিরে যশোর সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতির পর বিকালে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।

দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে রাতে রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটাই যশোরে প্রথম সফর।

৫০ বছর আগে জিয়াউর রহমানের উলশী খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে যশোরে গ্রামীণ অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটে। স্থানীয়ভাবে খাদ্য উৎপাদন বাড়ার ফলে আমদানি-নির্ভরতা কমে আসে। অনেকের মতে এটি রাজনৈতিক প্রচারণা হলেও যশোরের ভূ-প্রকৃতি ও কৃষি উন্নয়নে এর প্রভাব ছিল দীর্ঘমেয়াদি। এটা অস্বীকার করার উপায় ছিল না। 

যশোরের অনেক প্রবীণ ব্যক্তি আজও জিয়াউর রহমানের সেই ঝুড়ি-কোদাল হাতে মাটি কাটার স্মৃতি এবং তৎকালীন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন। এই ইতিহাস মূলত বাংলাদেশের আধুনিক কৃষি বিপ্লবের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর নিজ হাতে কোদাল তুলে নিয়ে মাটি কেটে যশোরের শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলাশী-যদুনাথপুরে প্রায় চার কিলোমিটার খাল খননের উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলে দলে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননে অংশ নেন সাধারণ মানুষ। ৬ মাসে খাল খনন সফল হয়। ৬ মাস পর ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

উলাশী-যদুনাথপুর খাল খনন কর্মসূচি সফল হওয়ায় বাংলাদেশের কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে সারা দেশে ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেন। এই উদ্যোগ পরে ‘জিয়া মডেল’ নামে পরিচিতি লাভ করে, যা গ্রামীণ উন্নয়ন ও পানি ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং কৃষকদের জন্য সেচ ব্যবস্থা উন্নত করা। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নদী ও সাগরে চলে যেত, আবার শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিত। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জিয়াউর রহমানের নন্দিত উদ্যোগ খাল খনন কর্মসূচি ব্যাপক সাড়া ফেলে।

কিন্তু দীর্ঘ ৫০ বছরে উলাশী-যদুনাথপুর খাল সংস্কার না করায় অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান জীবনে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে তারই দেখানো পথেই উলাশী খাল খনন উদ্বোধন করবেন। এটা দেশবাসীর বড় এক অর্জন।

৫০ বছর আগে জিয়াউর রহমানের নিজে হাতে কোদাল নিয়ে খনন করা সেই খালটি পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এ অঞ্চলের মানুষ আবেগে আপ্লুত।

শার্শা উলাশী এলাকার ৮৫ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল খালেক বলেন, যশোরে খাল খনন কর্মসূচি ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে গৃহীত ‘খাল খনন বিপ্লব’-এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর ঢাকার ধামরাইয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হলেও যশোরের কৃষি ও জল নিষ্কাশন ব্যবস্থায় এর ব্যাপক প্রভাব ছিল। তবে দীর্ঘ বছর সংস্কার না করায় সেগুলো আবারও ভরাট হয়ে গিয়েছিল। এ অঞ্চলের মানুষ মনে করে এই খাল খননের ফলে এলাকায় কৃষির উৎপাদন বাড়বে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা