মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫১ পিএম
আলতাফ উদ্দিন শাহীন। ফাইল ছবি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় ছেলের মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন জন্মদাত্রী মা। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
উপজেলার ২ নম্বর সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলতাফ উদ্দিন শাহীন (৫৩) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর সহ্য করতে না পেরে অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যান তার মা মোছা. জুবাইদা মনি (৮০)।
আলতাফ উদ্দিন শাহীন ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার পিতা হাজী মো. মনির উদ্দিন। কটিয়াদীর রায়খলা গ্রামে তাদের পৈতৃক বাড়ি হলেও তিনি কিছুদিন ধরে গাজীপুরে বসবাস করছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে গাজীপুরে অবস্থানকালে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন শাহীন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভোরে তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রিয় ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শুনে রবিবার ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে নিজ বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তার মা জুবাইদা মনি।
একই দিনে মা ও ছেলের এমন মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে। প্রতিবেশী ও স্বজনদের কান্নায় এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকেও বহু মানুষ তাদের বাড়িতে ভিড় জমায়।
প্রতিবেশীরা জানান, মা ও ছেলের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক ছিল। ছেলের মৃত্যুর শোক মা সইতে পারবেন না- এমনটা আশঙ্কা করলেও এতো দ্রুত তিনি চলে যাবেন, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
শাহীনের ভাই মোস্তফা কামাল বলেন, “আমার মা খুবই অসুস্থ ছিলেন। গতরাতে বিষয়টি আমার বড় ভাই শাহীনকে জানানোর পর থেকেই তিনি চিন্তিত ছিলেন। পরে রাত ২টার দিকে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে তিনি মারা যান। এই সংবাদটি মাকে জানানো হলে তিনিও মারা যান। ঘটনার পর থেকে আমাদের পরিবার শোকে প্রায় বাকরুদ্ধ।”
শাহীনের চাচাতো ভাই মাওলানা আল মামুন বলেন, “রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শাহীন বাড়িতে থাকতেন না। তিনি গাজীপুরে বসবাস করতেন। তবে সুযোগ পেলেই মাকে দেখতে বাড়িতে আসতেন। তার প্রতি মায়ের গভীর টান ছিল। সেই টান থেকেই ছেলের মৃত্যুর শোক তিনি সহ্য করতে পারেননি। মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে মা-ছেলের মৃত্যুতে পুরো এলাকা শোকে মুহ্যমান হয়ে আছে। ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম মহরম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ছেলের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের মৃত্যু- এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। একই পরিবারের মা ও ছেলের পরপর মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।