কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:১৭ পিএম
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন তেত্রিশকানি এলাকায় সরকারি কেওড়া বাগান থেকে গাছ কাটতে বাঁধা দেওয়ায় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার মহিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল মিয়া গত ২৩ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় বনকর্মীদের নিয়ে তেত্রিশকানি এলাকার কেওড়া বাগানে উপস্থিত হন। এসময় অভিযুক্তরা ৩-৪ ফুট দৈর্ঘ্যের ১০-১২টি কেওড়া গাছ কেটে নিয়েছেন বলে প্রমাণ পান, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ হাজার টাকা। ঘটনাস্থলে গাছ কাটার ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন এবং এতে থাকা তথ্য মুছে ফেলেন। এ সময় বনকর্মীরা বাঁধা দিলে অভিযুক্তরা ইট, দা, লাঠি, কুড়াল ও করাত দিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা বনকর্মীরা আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী সলেমান বিশ্বাস জানান, আমরা না থাকলে বন কর্মকর্তাদের মেরেই ফেলত। ৫-৭ জন মিলে তাদের ওপর হামলা চালায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, স্থানীয় আলামিন, সলেমানসহ কয়েকজন বনের গাছ কেটে নিয়ে যায়। পরে বিট কর্মকর্তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এলে তাদের ওপর হামলা চালায়। এবং তাদের মারধরে কয়েকজন বন কর্মকর্তা আহত হন।
এদিকে হামলার সময় বনকর্মী রুবেলের কাছে থাকা মানিব্যাগ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনার পর এক পর্যায়ে বন বিভাগের একজন কর্মী নিখোঁজ ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আহত বনকর্মী রুবেল হোসেন বলেন, আমরা সরকারি সম্পদ রক্ষায় গেলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমাদের মারধর করা হয়েছে এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত আবু সালেহ ফকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অপর অভিযুক্ত আল-আমিন ফকিরের নম্বরে যোগাযোগ করলে তার ছেলে নেছার বলেন, আমার বাবা কলাপাড়ায় গেছেন। বন বিভাগের লোকজনের সাথে মারধরের বিষয়ে আমি কিছু জানি না, আমি তখন স্কুলে ছিলাম। তবে টাকার বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি।
মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারি বাগান থেকে গাছ কাটার বিষয়টি গুরুতর অপরাধ। আমাদের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক। আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।