ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫২ পিএম
ফুলবাড়ীর বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘোড়া নিয়ে এসেছেন বিক্রেতারা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ীতে শুরু হয়েছে দুই শত পাঁচ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলা।
জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই মেলায় দিনাজপুর, রংপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দুই শতাধিক ঘোড়া নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী ও পালনকারীরা।
ক্রেতার অভাবে হতাশ ব্যবসায়ীরা
মেলার শুরু থেকেই ঘোড়ার উপস্থিতি বেশি থাকলেও ক্রেতার অভাবে কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। আগামী রবিবার (২৬ এপ্রিল) মেলায় ঘোড়া কেনাবেচার জন্য নির্ধারিত ছাপা বা রশিদ প্রদান শুরু হবে। তবে এর আগেই সীমিত আকারে লেনদেন শুরু হয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও মেলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠকে ঘিরে বসেছে বিশাল গ্রামীণ মেলা।
নাগরদোলা, চরকি, পুতুল নাচ, যাদু প্রদর্শনী, গ্রামীণ খাবারের দোকান এবং বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন মেলায় ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।
পাশাপাশি ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা সব বয়সী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। নারী, পুরুষ, কিশোর-কিশোরীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ মেলায় ভিড় করছেন।
ঘোড়ার বেচাকেনাই মেলার মূল আকর্ষণ
প্রতি বছর বৈশাখ মাসের ৯ বা ১০ তারিখে শুরু হয়ে প্রায় ১৫ দিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
যদিও গরু, মহিষ ও ছাগলের তেমন বেচাকেনা হয় না, তবে ঘোড়ার বেচাকেনাই এই মেলার মূল আকর্ষণ, যার কারণেই এটি বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলা নামে পরিচিত।
মেলায় আসা ঘোড়া ব্যবসায়ীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, চাহিদা থাকলেও ক্রেতারা প্রত্যাশিত দাম দিচ্ছেন না। বিশেষ করে দরদামে মিল না হওয়ায় বিক্রি হচ্ছে না অনেক ঘোড়া। আবার কেউ অপেক্ষায় আছেন ভালো দামের আশায়।
মেলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকেই এই মেলা চলছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি অঞ্চলের বড় সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মেলাকে কেন্দ্র করে হরেক রকম দোকানপাট, বিনোদন আয়োজন ও ঘোড়ার প্রদর্শনী চলে।
মেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও মেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।