ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৯ পিএম
তানভির ওরফে মোজাহিদ। ফাইল ছবি
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তানভির ওরফে মোজাহিদ নামের ৭ মাসের সন্তানকে ডোবায় ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবা মেরাজ মিয়ার (২৪) বিরুদ্ধে।
উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকায় বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে বাবা মেরাজ মিয়াসহ শিশুটির দাদি রাবেয়া বেগম (৬০)।
অভিযুক্ত মেরাজ মিয়া মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকার মৃত ফেলু মিয়ার ছেলে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেরাজ মিয়া মাদকাসক্ত ছিলেন। প্রায় সময় মেরাজ তার স্ত্রী, মা ও ভাইদের সঙ্গে নেশার টাকার জন্য ঝগড়া করতেন। ১০ দিন আগে মেরাজকে স্ত্রী, সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেন মেরাজের মা ও ভাইয়েরা। এরপর থেকে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করেন তারা। সেখানে গিয়েও স্ত্রী তাসলিমার সঙ্গে কলহ লেগে থাকে মেরাজের।
১ সপ্তাহ আগে দাদি রাবেয়া নাতিকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে শিশুটির নানা বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। তিনদিন পর শিশুটির মাকে রাবেয়া জানান, শিশুটিকে তার বাবা বিক্রি করে দিয়েছেন।
বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করলে তারা গিয়ে শিশুটিকে বের করে দিতে দাদি রাবেয়া বেগম এবং বাবা মেরাজকে চাপ দেয়।
বুধবার রাতে বাবা মেরাজ মিয়া শ্বশুর বাড়ির স্বজনদের জানান, শিশুটিকে পার্শ্ববর্তী গোলাপ মিয়ার ডোবায় ফেলে এসেছেন। সেখানে গেলে শিশুটিকে পাওয়া যাবে। বৃহস্পতিবার সকালে নানার বাড়ির লোকজন স্থানীয়দের নিয়ে গিয়ে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান।
শিশুর মা তাসলিমা বেগম বলেন, “কয়েকদিন আগে আমার সঙ্গে আমার স্বামীর ও তার পরিবারের ঝগড়া হলে আমি আমার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যাই। আমার ছেলের ডায়রিয়া হলে পরের দিন তার দাদি ঔষধ কিনে দেওয়ার কথা বলে আমার সন্তানকে তাদের বাড়ি নিয়ে যান। এরপর থেকেই আমার ছেলে নিখোঁজ।”
শিশুটির মা অভিযোগ করে বলেন, “বুধবার আমার স্বামী আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘তোর ছেলেকে কোনও দিন ফিরে পাবি না।’ আমার ছেলেকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমি আমার স্বামী ও শাশুড়িসহ জড়িত সবার বিচার চাই, ফাঁসি চাই।”
ভৈরব থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হাতে পেলে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।