সিরাজদিখান বাজার
দেবব্রত দাস দেবু, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৪ পিএম
আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৭ পিএম
স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় সিরাজদিখান বাজারেই ফেলা হচ্ছে গরু-মুরগি-মাছ বর্জ্য। এতে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসীসহ ক্রেতা-বিক্রেতারা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান বাজারে গরু, মুরগি ও মাছের বর্জ্য থেকে ছড়ানো তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও আশপাশের বাসিন্দারা।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাজারজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বাজারের কসাইখানা ও মাছ বিক্রেতাদের দোকান থেকে উৎপন্ন বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করা হয় না। ফলে পচা বর্জ্য ও নোংরা পানিতে বাজারের সড়ক ও আশপাশের দোকানগুলোতে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে বাজারে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এতে করে দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আব্দুর রশিদ রতণ বলেন, তিনি নিয়মিত এই বাজারে আসেন, কিন্তু বর্তমানে দুর্গন্ধের কারণে এখানে দাঁড়ানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
তার ভাষায়, “গরু, মুরগি আর মাছের বর্জ্যের গন্ধে পুরো বাজার ভরে থাকে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই স্বস্তিতে থাকতে পারছে না। অনেকেই বিরক্ত হয়ে বাজার না করেই ফিরে যাচ্ছেন।” তিনি দ্রুত কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানান।
সিরাজদিখান বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, বর্জ্য খোলা স্থানে ফেলার কারণে বাজারের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে গরমের সময় দুর্গন্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
“আমরা বাজার কমিটির পক্ষ থেকে বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু এখনও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি,” বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দ্রুত স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ বলেন, এভাবে বর্জ্য ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এতে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে।
তিনি জানান, বাজারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা শুধু প্রশাসনের নয়, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাসহ সকলের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে বাজার পরিষ্কার রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি নির্ধারিত স্থানের বাইরে বর্জ্য ফেলে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত বাজার গড়ে তুলতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বাজারের পরিবেশ আরও অবনতির দিকে যাবে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়বে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।