নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৬ এএম
আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ২১:০৮ পিএম
বরিশালে মামা-ভাগ্নে মিলে ‘থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট’ তৈরি করেছেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশে মামা ও ভাগ্নে মিলে তৈরি করেছেন মিসাইল ও রকেট। থান্ডাবোল্ট নামের এই মিসাইল ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে দিয়ে ৫ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি দুই আবিষ্কারকের।
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের গৌতম পালের ছেলে ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র প্রিতম পাল ও তার মামা একই গ্রামের জয়দেব চন্দ্র পালের ছেলে ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সুজন চন্দ্র পাল মিলে আবিষ্কারটি করেছে।
মিসাইল এবং রকেটের কাজ শেষ হলেও সরকারের অনুমতি ছাড়া এটি নিক্ষেপ ও উড্ডয়ন করতে পারছেন না তারা।
জানা গেছে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা মাথায় রেখে ৬-৭ মাস আগে মামা-ভাগ্নে মিলে থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট তৈরির কাজ শুরু করেন। নিজেদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ও পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে ২০২৫ সালে শুরু করে ৬-৭ মাসের চেষ্টায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় করে সম্প্রতি মিসাইল এবং রকেটের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
দুজনে আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা। তারা সম্পর্কে মামা ভাগ্নে এবং দুজনেই রোবটিক্স সেক্টরে কাজ করছেন। এ কারণে দুজনের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা দুজনেই রোবটিক্স নিয়ে কাজ করায় আইডিইএ প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকার ফান্ড পেয়েছিলেন। এছাড়া নাসা প্রকল্পের প্রতিযোগিতায় সেরা দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন তারা দুজনে।
প্রিতম পাল রোবটিক্স হাত ও স্মার্ট সিটি তৈরি করায় ২০২৪ সালের ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে স্বর্ণপদক ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে পুরস্কার হিসেবে রৌপ্যপদক পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণে ২০২৪ সালে উপজেলা পর্যায় বিজ্ঞানে বর্ষসেরা মেধাবী পুরস্কার পেয়েছিল। এছাড়াও আধুনিক জীবনযাপনের লক্ষ্যে স্মার্ট সিটির রূপরেখা তৈরি করেছেন।
সুজন চন্দ্র পাল ২০২২ সালে রোবট আবিষ্কার করেন, যা দিয়ে আগুন লাগলে ও গ্যাস লিকেজ হলে সংকেত দিত। যার কারণে ২০২৩ সালে ৪৪তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিল।
সুজন চন্দ্র পাল বলেন, স্কুলজীবন থেকে আবিষ্কারের প্রতি আগ্রহ ছিল। তার ধারাবাহিকতায় কম্বাইন করে আমরা থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট তৈরি করেছি। ভবিষ্যতে বড় কিছু করার জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।
প্রিতম পাল জানান, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা মাথায় রেখে মামাকে নিয়ে আমরা এই আবিষ্কার করেছি। সরকারের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করার ইচ্ছা রয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রিতম পালের পিতা ইউপি সচিব গৌতম পাল বলেন, আমার ছেলে প্রিতম পাল টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এবং আমাদের কাছ থেকেও টাকা নিয়ে এ আবিষ্কার করেছে। আমরা তাদের কাজে গর্বিত, তারা যেন দেশের সেবায় কাজ করতে পারে এজন্য সরকার ও দেশবাসীর কাজে সহযোগিতা ও দোয়া চাই।
এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. খোরশেদ আলম বলেন, তারা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আগামী দিনের কথা চিন্তা করে মেধাবী ছাত্রদের এ উদ্ভাবন আমাদের দেশের কাজে লাগাতে হবে।