× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খুলনা মহানগর

দখল-ভরাটের শিকার জলাশয়, বেড়ে চলেছে তাপমাত্রা

খুলনা অফিস

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৯ এএম

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩৩ পিএম

খুলনা মহানগরে পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ, দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে দ্রুত কমে যাচ্ছে উন্মুক্ত জলাশয় বা পুকুর। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

খুলনা মহানগরে পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ, দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে দ্রুত কমে যাচ্ছে উন্মুক্ত জলাশয় বা পুকুর। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

খুলনা মহানগরে পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ, দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে দ্রুত কমে যাচ্ছে উন্মুক্ত জলাশয় বা পুকুর। আইনে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও গত এক দশকে প্রায় দুই হাজার জলাশয় হারিয়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে।

এর ফলে নগরের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, বাড়ছে তাপমাত্রা, নেমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এবং সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জানায়, বর্তমানে খুলনা মহানগরে মাত্র ১৭১টি পুকুর রয়েছে। তবে এসবের বেশিরভাগই সংরক্ষণের অভাবে কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরে কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। একসময় নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডেই ছড়িয়ে থাকা পুকুরগুলো আজ দখল ও ভরাট হয়ে দালানকোঠা, মার্কেট, সড়ক ও পার্কে পরিণত হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্রে জানা যায়, ৪৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নগরীতে গত ৩০ বছরে পাকা দালান ও আবাসিক ভবনের পরিমাণ ২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নগরায়ণের এই চাপের মুখেই হারিয়ে গেছে বহু পুকুর ও জলাভূমি। শুধু গত ১৫ বছরেই প্রায় দুই হাজার পুকুর বিলীন হয়েছে। অথচ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ২০১০ অনুযায়ী পুকুর বা জলাধার ভরাট সম্পূর্ণ বেআইনি।

সরেজমিন দেখা যায়, নগরের ঐতিহ্যবাহী বহু পুকুর এখন আর নেই। খানজাহান আলী রোডের ‘তারের পুকুর’ ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে জাতিসংঘ শিশুপার্ক। গোলকমনি পুকুরের জায়গায় হয়েছে পার্ক, আর ফেরিঘাটের পুকুরের স্থানে এখন বাসস্ট্যান্ড। ব্যক্তিগত পুকুরের পাশাপাশি সরকারি জলাশয়ও দখল ও ভরাটের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অবশিষ্ট জলাশয়গুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। জোড়াকল বাজারের পাশে ‘বগির পুকুর’ প্রায় পাঁচ বছর ধরে কচুরিপানায় ঢেকে আছে। নতুন বাজার বস্তি এলাকার একটি পুকুর আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। তালতলা পুকুরসহ নগরের অধিকাংশ পুকুরেই একই চিত্র।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জলাশয় হারানোর প্রভাব এখন সরাসরি তাদের জীবনে পড়ছে। শান্তিধাম এলাকার বাসিন্দা প্রবীণ মোশাররফ হোসেন বলেন, ছোটবেলায় প্রতিদিন পুকুরে গোসল করতাম, সাঁতার শিখতাম। এখন সব পুকুর ভরাট হয়ে গেছে, জলাশয় নেই বললেই চলে।

দৌলতপুর এলাকার গৃহিণী রাশিদা বেগম বলেন, আগে বাসার পাশের পুকুরের পানি ব্যবহার করতাম। এখন সেখানে আবর্জনা ফেলা হয়, দুর্গন্ধে থাকা যায় না। মশার উপদ্রবও বেড়েছে।

পিটিআই এলাকার ব্যবসায়ী রাসেল তালুকদার জানান, বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে। আগে পুকুরে পানি চলে যেত, এখন পুকুর না থাকায় রাস্তাই ড্রেন হয়ে গেছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলাশয় কমে যাওয়ার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরও ভয়াবহ হবে। এতে নগরের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী গত ১০ বছরে খুলনায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাপার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, জলাশয় সংকুচিত হওয়ায় নগরবাসী বড় ধরনের পরিবেশ সংকটে পড়ছে। আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও পুকুর ভরাট হচ্ছে। এই ধারা চলতে থাকলে খুলনা অচিরেই বাসযোগ্যতা হারাবে।

তবে সিটি করপোরেশন বলছে, তারা সীমিত উদ্যোগ নিয়েছে। কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আবিরুল জব্বার বলেন, আমরা ১৮টি পুকুর সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা নিয়েছি। তবে সব জলাশয় একসঙ্গে রক্ষা করা সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।

অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, পুকুর ভরাটের খবর পেলেই আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেই। তবে বাস্তবে দখল ও অবহেলার কারণে অনেক পুকুর হারিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি শহরে অন্তত ২৫ শতাংশ বন ও জলাশয় থাকা প্রয়োজন। কিন্তু খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বর্তমানে এই হার ২০ শতাংশেরও কম।

সব মিলিয়ে আইনের দুর্বল প্রয়োগ, পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ এবং জনসচেতনতার অভাবে খুলনার জলাশয় দ্রুত বিলীন হচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই নগরীর পরিবেশগত বিপর্যয় আরও গভীর হবে এমন আশঙ্কাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা