চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৪০ পিএম
জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার আসর ও বৈশাখী মেলা শুরু হবে আগামী শুক্রবার। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেরণায় ১৯০৯ সালে শুরু হওয়া এই বলীখেলার এবার ১১৭তম আসর। আয়োজক কমিটির তথ্যমতে, এবারের বৈশাখী মেলা শুরু হবে শুক্রবার এবং মূল বলীখেলা অনুষ্ঠিত হবে শনিবার।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বলীখেলা উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বলীখেলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আব্দুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল।
সংবাদ সম্মেলনের আগে চট্টগ্রামের লালদিঘী চত্বরে বলি খেলার প্রতিকৃতি সম্বলিত ম্যুরালের উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় জব্বারের বলীখেলার প্রবর্তক আব্দুল জব্বারের নামানুসারে চত্বরটির নাম ‘জব্বার চত্বর’ নামকরণ করা হয়েছে।
নবনির্মিত ম্যুরালে টেরাকোটার ত্রিভুজ আকৃতির এ চত্বরের একদিকে রাখা হয়েছে বলীখেলার প্রতিকৃতি, একপাশে হাতুরির প্রতিকৃতি দিয়ে ন্যায় বিচারের পীঠস্থান আর অপর পাশে দুই হাতে শেকল ভাঙ্গার প্রতিকৃতি দিয়ে লালদিঘীর ইতিহাস লেখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তারা আমার কাছে অনুরোধ করেছিল এ চত্বরকে আব্দুল জব্বার চত্বর হিসেবে ঘোষণা করার। আমি তাদের কথা দিয়েছিলাম। আজকে সেটার উদ্বোধন করছি। আমরা এখানে এমন একটি ম্যুরাল নির্মাণ করেছি যা বলিখেলা, বীর চট্টলার সংগ্রামী ঐতিহ্য এবং আদালতে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির চেতনাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। চট্টগ্রামের এ বলি খেলার ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানাতে হবে এই ভাবনা থেকে এই ম্যুরালটি নির্মাণ করা হল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় শুক্রবার থেকে আব্দুল জব্বারের ঐতিহাসিক বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা। লালদিঘী মাঠে শনিবার অনুষ্ঠিত হবে বলীখেলার ১১৭তম আসর। শনিবার বলীখেলার উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। খেলা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করবেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। আগামী ২৬ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা আছে। মাঠের পাশেই সরকারি মুসলিম হাই স্কুলে পরীক্ষার কেন্দ্র আছে। যার কারণে রবিবার ভোরেই মেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মেলা উপলক্ষ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি স্ট্যান্ডবাই রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আবদুল জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও কমিটির সদস্য আলী হাসান রাজুর পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সোহেল, আয়োজক কমিটির সদস্য খোরশেদ আনোয়ার বাবুল, আকতার আনোয়ার চঞ্চল, জাহাঙ্গীর আলম, মো. সেলিম, আবদুল করিম, হারুন জামান, ইসমাইল বালি, এস এম আবদুল্লাহ আকতার, মো. বেলাল প্রমুখ।
আয়োজকেরা
জানান, স্থানীয় বদরপতি এলাকার আব্দুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে
এ অঞ্চলের যুবকদের সংগঠিত করতে লালদিঘী মাঠে বলীখেলার প্রচলন করেছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী
আন্দোলনে এ অঞ্চলের যুবকদের সংগঠিত করতে গত শতাব্দীর ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের লালদিঘী
মাঠে যে কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন স্থানীয় আব্দুল জব্বার সওদাগর, সে কুস্তি
কালক্রমে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘বলি খেলা’ নামে। বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে প্রতিবছর ১২ বৈশাখ লালদিঘী
মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ বলীখেলার। খেলাকে কেন্দ্র করে হওয়া মেলা রূপ নিয়েছে চট্টগ্রামবাসীর
প্রাণের মেলায়।