মো.শরিয়ত উল্যাহ রিফাত,
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৪৬ এএম
টার্মিনাল ছাড়া সড়ক ও মহাসড়কে কোনো টোল আদায় করা যাবে না এ মর্মে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভায় আদায় করা হচ্ছে পৌর টোল। সরেজমিনে সোনাগাজী পৌর শহরের জিরো পয়েন্ট ও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে পরিবহন বাস, ট্রাক, পিকআপ ও সিএনজি থেকে নির্ধারিত হারে পৌর টোল আদায় করতে দেখা গেছে। এছাড়াও পৌরসভার সীমানা পেরিয়ে সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়ক থেকেও পৌরসভার নামে টোল আদায় করছেন ইজারাদার।
জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল ২০২২ তারিখ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত
রিট পিটিশনের আদেশের আলোকে টার্মিনাল ব্যতিরেকে সড়ক-মহাসড়ক থেকে টোল উত্তোলন না করতে
সকল সিটি কর্পোরেশন এবং পৌর মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করার জন্য সড়ক
পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ হতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। অথচ ওই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি
দেখিয়ে এখনো প্রকাশ্যে সোনাগাজী পৌরশহরের প্রবেশ পথের সড়কে দাঁড়িয়ে প্রতিটি যানবাহন
থামিয়ে পৌর টোল আদায় করা হচ্ছে।
সোনাগাজী পৌরসভার জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন পরিবহন থেকে পৌর টোল
আদায়কারী মাইনুল হক বলেন, টোল আদায় বন্ধ করার জন্য ইজারাদার ও পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো
নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমি দৈনিক বেতনে ইজারাদারের চাকরি করছি। তাই ইজারাদারের নির্দেশে
টোল আদায় করছি।
ইজারাদার মাহফুজুর রহমান ফটিক ও তার ইজারার অংশিদার মো.স্বপন বলেন,
আমরা বৈধ প্রক্রিয়ায় ইজারা নিয়েছি এবং ইজারার শর্ত মেনে টোল আদায় করছি। সোনাগাজী পৌরসভার
সীমানা পেরিয়ে সদর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে তারা বলেন, অধিকাংশ
গাড়ী টোল না দেওয়ার জন্য পৌরসভার জিরোপয়েন্ট দিয়ে না গিয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে,
তাই আমরা পৌরসভার সীমানা পেরিয়ে তাদের থেকে টোল আদায় করি। স্ট্যান্ড ব্যাতিত সড়ক থেকে
টোল আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর দেননি।
সিলেট থেকে নোয়াখালীর বসুরহাট গামী পাথর বোঝাই করা ট্রাকের চালক নুর
ইসলাম বলেন, সিলেট থেকে আসার সময় বেশ কয়েকটি পৌরসভা পার হয়ে এসেছি। কিন্তু টোল দিতে
হয়নি। সোনাগাজী পৌরসভা অতিক্রম করার সময় টোল দিতে হয়েছে। চালক আরো বলেন, কেন টোল দিতে
হবে এটি জানতে চাইলে টোল আদায়কারী মারমুখী আচরণ করেন।
সোনাগাজী মডেল থানা সুত্রে জানা গেছে, সোনাগাজী জিরো পয়েন্ট থেকে
টোল আদায়ের ঘটনায় ২০২৩ সালের ৯ জুন র্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক(ডিএডি)
মো.ছামিউল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। যার মামলা
নং জিআর ৮৯, সোনাগাজী থানার মামলা নং ৯। পরে দীর্ঘ তদন্ত শেষে সোনাগাজী মডেল থানার
এসআই গোলাম হাক্কানী ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি টোল আদায়কারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সম্পৃক্ততা
পেয়ে ৩৪১, ৩৮৫, ৩৮৬, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
পূর্বের টোল আদায়কারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হলেও পুনরায় একইভাবে
টোল উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে কিনা জানতে চাইলে সোনাগাজী মডেল
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, পূর্বের বিষয় আমার জানা নেই। পৌরসভা
কি কি শর্তে ইজারা দিয়েছে তা জেনে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সোনাগাজী পৌরসভার পৌর নির্বাহী মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, আমরা শুধু
স্ট্যান্ড ইজারা দিয়েছি। স্ট্যান্ডের বাহির থেকে টোল তোলা অবৈধ জানিয়ে তিনি বলেন, ইজারাদার
শর্ত ভঙ্গ করলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে স্ট্যান্ড ব্যাতিত সড়ক থেকে টোলের
নামে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে জানতে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌরসভার প্রশাসক
রিগ্যান চাকমার সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন সাড়া মিলেনি। তার ব্যবহৃত
নাম্বারের হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি উত্তর দেননি।