গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০০ এএম
আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০০ এএম
সুবর্না শিকদার। ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর)।
বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িতরা নানা মন্তব্য করছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ প্রার্থীর নাম সোমবার ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এই তালিকার ২০ নম্বরে রয়েছে সুবর্ণা শিকদারের (ঠাকুর) নাম।
সুবর্ণা ঠাকুর শ্রীধাম ওড়াকান্দির পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য। তিনি মতুয়া মহা-মিশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি। এছাড়া ওড়াকান্দি মীড উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করেন।

২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১ জানুয়ারি কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে সুবর্ণা ঠাকুরের উপস্থিতি দেখা গেছে।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রশ্ন করেছেন, আমি হতাশ! দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আমাদের বোনদের কী লাভ হলো, যদি আওয়ামী লীগের নেত্রীকেই সংরক্ষিত আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়?
কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, দল যাকে যোগ্য মনে করেছেন তাকেই মনোনয়ন দিয়েছেন। তবে ত্যাগী নেত্রীদের মনোনয়ন দেয়া হলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা খুশি হতো। তার পরেও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই, দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। দলীয় সিদ্ধান্তে আমাদের কাজ করতে হবে।
কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. সেলিম বলেন, এ বিষয়ে আপাতত আমি কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছি না, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রহমান যেহেতু এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাই আমরা এখনই কোনও মন্তব্য করছি না।
সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর) বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। আমাকে এক সময় কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সত্যি বলতে, এতে আমার কোনো সম্মতি ছিল না। আমাকে না জানিয়েই, তাদের ইচ্ছামতো ওই তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আমি কখনও সেই তালিকা দেখিনি, এমনকি কোনো মিটিং-মিছিল বা দলীয় কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করিনি।”
তিনি বলেন, “এ কারণে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগও করিনি। কারণ বিষয়টিকে আমি কখনো গ্রহণই করিনি। আমার এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ ছিল না। আমি একজন শিক্ষক। আমার পেশাগত ও ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকি। বাংলাদেশসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় কাজে আমাকে যেতে হয়, তাই রাজনীতির ওই বিষয়টি আমি পুরোপুরি এড়িয়ে গেছি। রাজনীতির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা আসলে ছাত্রজীবন থেকেই। খুলনা সিটি কলেজে পড়াশোনার সময় আমি বিএনপির ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তখন সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করেছি। সেই সময়ের কিছু প্রমাণও রয়েছে, যেমন পত্রিকায় আমার ছবি প্রকাশিত হয়েছিল।”