নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩০ পিএম
সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহা রিপন। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা ভূমি অফিসে বিভিন্ন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তোপের মুখে পড়েছেন সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহা রিপন।
উপজেলা ভূমি অফিসে সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জমির খারিজ ও খাজনা সংক্রান্ত কাজে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে পাঁচ-ছয়জন ক্ষুব্ধ সেবাগ্রহীতা তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় অফিসজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ বিন মনসুর। পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে তিনি সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহা রিপনকে সেখান থেকে উদ্ধার করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যান।
লাপাং গ্রামের বাসিন্দা মহরম আলী অভিযোগ করেন, শামসুদ্দোহা রিপন তিন ভাইয়ের সম্পত্তির খাজনা ও তিনটি খারিজ করে দেওয়ার জন্য ৯০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার শর্তে দুই দফায় ৪৫ হাজার টাকা করে মোট ৯০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা খারিজ পাননি।
মহরম আলীর ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, “অফিসে গেলে আজ নয় কাল বলে ঘুরানো হয়, কিন্তু কাজ আর হয় না।”
প্রবাসী আমির নামের এক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীর কাছে খাজনা দেওয়ার জন্য ৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। পরে তিনি দেশে এসে যোগাযোগ করলে কোনো টাকা ছাড়াই কাজ সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ বিন মনসুর বলেন, “ঘটনার পর তাকে অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” স্থানীয়রা কেন তাকে আটক করেছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার খারিজ সংক্রান্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তিন সাংবাদিককে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে রিপনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, জমির নামজারি করতে আসা এক ব্যক্তির কাছে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। বিষয়টি ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অফিসে আটকে রাখা হয়।
এ ঘটনায় কয়েকজন সেবাগ্রহীতাও অফিসের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের মুক্ত করা হয়।
ঘটনার পর সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহা রিপনকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করা হলেও অভিযুক্ত অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমান এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এতে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় উপজেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।