× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাবার দুর্ঘটনায় থেমে গেছে শাওনের পড়াশোনা

মো. জাকিরুল ইসলাম, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ)

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০৯ পিএম

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২১ পিএম

হাটে বসে নিজে খাওয়ার পাশাপাশি চামচে করে অসুস্থ বাবার মুখেও ঝালমুড়ি তুলে দিচ্ছে শাওন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

হাটে বসে নিজে খাওয়ার পাশাপাশি চামচে করে অসুস্থ বাবার মুখেও ঝালমুড়ি তুলে দিচ্ছে শাওন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের কয়রাহাটি গ্রামে ১২ বছর বয়সী কিশোর শাওনের জীবনে এখন আর স্কুলের ঘণ্টা বাজে না, বাজে দায়িত্বের ভার।

একসময় যে হাতে ছিল বই–খাতা, এখন সেই হাতে বাবার হুইলচেয়ার ঠেলে হাট–বাজারে ঘুরে ঘুরে সাহায্য সংগ্রহ করতে হয় তাকে।

ভ্যানচালক বাবা আ. খালেক (৫৭) প্রায় দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ায় এবং হাত–পা অবশ হয়ে যাওয়ায় তিনি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।

উন্নত চিকিৎসার জন্য যা কিছু ছিল, সবই বিক্রি করে শেষ করে ফেলে পরিবারটি। তবুও অর্থাভাবে পুরোপুরি সুস্থ করা সম্ভব হয়নি তাকে বলে দাবি খালেকের।

ছোট্ট শাওনই একমাত্র ভরসা

পরিবারে রয়েছেন অসুস্থ মা ফজিলা খাতুন (৫৫), যিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ও শারীরিকভাবে দুর্বল।

দুই বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ঘরে এখন বাবা–মা আর ছোট্ট শাওনই একমাত্র ভরসা। আর সেই ভরসার কাঁধেই নেমে এসেছে সংসারের পুরো বোঝা।

শাওন জানায়, দুর্ঘটনার আগ পর্যন্ত সে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। কিন্তু হঠাৎ বাবার দুর্ঘটনায় সবকিছু থেমে যায়। এখন তাকে বাবাকে হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যেতে হয় হাটে–বাজারে, যেখানে মানুষজনের কাছে সাহায্য চেয়ে কোনোভাবে সংসার চালানো হয়।

সেই সামান্য আয় থেকেই কিনতে হয় বাবার ওষুধ, জানায় শাওন।

শাওনের মনে এখনও বেঁচে আছে একটি স্বপ্ন 

কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে শাওন বলে, “আমি আগে লেহাপড়া করতাম, কিন্তু আব্বার দুর্ঘটনার পর সব বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আব্বার ওষুধ আর সংসার চালানোর জন্য হাটে–বাজারে যাই।”

সব কষ্টের মাঝেও শাওনের মনে এখনও একটি স্বপ্ন বেঁচে আছে—আবার স্কুলে ফেরা, বই হাতে নেওয়া। কিন্তু বাস্তবতা তাকে প্রতিদিনই ঠেলে দিচ্ছে কঠিন সংগ্রামের জীবনে।

বাবা আ. খালেক হতাশ কণ্ঠে বলেন, “আমি পঙ্গু হয়ে গেছি। চিকিৎসায় অনেক ঋণ হয়েছে। এখন বুঝতে পারি না কীভাবে সংসার চলবে। ছেলেটাকে সঙ্গে নিয়ে ভিক্ষার মতো সাহায্য চাইতে হচ্ছে।”

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, পরিবারটির কোনো জমিজমা নেই। দুর্ঘটনার পর থেকে তারা সম্পূর্ণভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

প্রতিবেশীদের দাবি,  এখন পর্যন্ত পরিবারটি কোনো সরকারি সহায়তাও পায়নি।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সানিয়াত সন্ধানী বলেন, “তারা যদি প্রতিবন্ধী ভাতা না পেয়ে থাকেন, তাহলে আবেদন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুতর অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তারও সুযোগ রয়েছে।”

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা