সাপের কামড়
মেহেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৪১ পিএম
মেহেরপুরে সাপের কামড়ে রুহুল আমিন নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মেহেরপুরে সাপের কামড়ের পর হাসপাতালে না নিয়ে ঝাড়ফুঁক করায় রুহুল আমিন (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
জেলার গাংনী উপজেলার পুরাতন মটমুড়া গ্রামের মাঠপাড়া এলাকায় শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটে।
মৃত রুহুল আমিন মটমুড়া গ্রামের মাঠপাড়া এলাকার আনছার মন্ডলের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাংনী থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে বাড়ির পাশের মাঠে বাতাস খেতে যান রুহুল আমিন। সেখানে সাপের কামড় দিলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় ওঝা-কবিরাজদের ডাকেন। একই গ্রামের ওঝা সানোয়ার হোসেন, ইরফান আলী ও সাদেক রাতভর ঝাড়ফুঁক করেন। রাত ৯টা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তথাকথিত ‘বিষ নামানোর’ চেষ্টা।
তারা দাবি করেন, এটি বিষধর সাপের কামড় নয়। রাত দুইটার দিকে তারা জানান, শরীরে কোনও বিষ নেই এবং রোগী সুস্থ।
এর কিছুক্ষণ পরই রুহুল আমিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি। ভোরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই জিয়াউর রহমান বলেন, “ওঝারা বলেছিল কোনও ভয় নেই, তাই হাসপাতালে নিতে দেরি হয়েছে। পরে যখন অবস্থা খারাপ হয়, তখন নিয়ে যাই, কিন্তু আর বাঁচানো যায়নি।”
এ ঘটনায় ওঝাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল আজিজ বলেন, এখন আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় সাপে কাটা রোগীর জন্য কার্যকর ভ্যাকসিন রয়েছে। কিন্তু অসচেতনতা ও কুসংস্কারের কারণে মানুষ এখনও ওঝার ওপর নির্ভর করে। এতে অনেক প্রাণ অকারণে ঝরে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই একমাত্র সঠিক সিদ্ধান্ত।
গাংনী থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ জানান, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুহুল আমিনের মৃত্যু হয়েছে, তবে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।