রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১৬ পিএম
চক্রের চার সদস্যকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করে নৌ-পুলিশ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যস্ততম নৌ-রুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া। এ রুটে চলাচলকারী ফেরিতে তিন তাসের ফাঁদে ফেলে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে একটি চক্র।
সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে এ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ-পুলিশ। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া শাহপরাণ ফেরি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার তেঘুরী এলাকার মো. আকাশ (২৩) ও মো. রাসেল মুন্সি (৩৩) এবং রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার জহির ওরফে জহু ফকির (৪২) ও মো. বাবু ফকির (৩৫)।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া শাহপরাণ ফেরিতে ‘তিন তাস’ খেলার প্রলোভন দেখিয়ে যাত্রী এবং চালকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর অঞ্চলের নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশনায় পাটুরিয়া নৌ-থানা ও দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ টিম ছদ্মবেশে ফেরিতে অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তাদের আরও দুই সহযোগী যাত্রীদের ভিড়ে মিশে পালিয়ে যায়।
দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মো. আকাশের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও জুয়া আইনে চারটি মামলা বিচারাধীন। রাসেল মুন্সির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা রয়েছে। জহির ওরফে জহু ফকিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও জুয়া আইনে মোট ১০টি মামলা বিচারাধীন এবং বাবু ফকিরের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নৌ-পুলিশ বাদী হয়ে শিবালয় থানায় জুয়া আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে। শনিবার সকালে গ্রেপ্তারদের মানিকগঞ্জ আদালতের প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নৌ-পথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।