হাম
কুমিল্লা অফিস
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৮ এএম
আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৮ পিএম
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালটির আইসোলেশন ইউনিটের সামনের বারান্দাতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালটির আইসোলেশন ইউনিটের সামনের বারান্দাতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এতে গরমের কারণে রোগীদের, বিশেষ করে হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য জটিলতা তৈরে হয়েছে।
জেলার হোমনা উপজেলা থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ মাস বয়সী ফারুককে নিয়ে এসেছেন বাবা সাইদুল ইসলাম। তবে বিছানা না পেয়ে আইসোলেশন ইউনিটের সামনের বারান্দায় রাখা হয়েছে শিশুটিকে।
সেখানে জানালা, ফ্যান না থাকার পাশাপাশি শত শত মানুষের চলাচলের কারণে ফারুকের অসুস্থতা বাড়ছে বলে অভিযোগে বাবা সাইদুলের। তিনি বলেন, হাতপাখা দিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে।
এমনই পরিস্থিতিতে পড়েছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণবাড়ীয়া নবীনগর এলাকার ফাতেমা আক্তারের দুই বছর বয়সী মেয়ে। তারা মেঝেতে চাটাই পেতে রাত কাটাচ্ছেন। গরম, ধুলোবালি আর জনবহুল পরিবেশে মেয়ে আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে, বলেন ফাতেমা।
রোগীতে পূর্ণ আইসোলেশন ইউনিট
হাসপাতালটিরে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাধিক্যের কারণে সবচেয়ে বেশী চাপে রয়েছেন তারা।
দেখা যায়, শিশু বিভাগের তিনটি আইসোলেশন ইউনিট এখন রোগীতে পূর্ণ। এ কারণে শিশুদের বারান্দা ও সিঁড়ির কাছে চাটাই পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এমনকি পাবলিক টয়লেটের সামনেও চাটাই পেতে থাকতে দেখা গেছে অনেককে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান মিয়া মনজুর আহমেদ জানান, বর্তমানে আইসোলেশন ইউনিটে সাধারণ বিছানা প্রয়োজন ১২৬টি হলেও বিছানা আছে ৫৪টি; যার বিপরীতে ৯৪ জন রোগী ভর্তি আছে।
তবে হাসপাতালে ভর্তি এই শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিতে তারা সমবেতভাবে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেনও জানিয়েছেন মনজুর আহমেদ।
এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, “ক্রমান্বয়ে রোগী বাড়ছে, আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করছি, তবে শয্যা ও আইসিইউ সংকট আমাদের অনেকটা নিরুপায় করে তুলেছে।”
এ বছর হামের প্রকোপে কুমিল্লায় এখন পর্যন্ত চার শিশু মারা গেছে, যার মধ্যে তিনজন ঢাকায় ও একজন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন।
এমনকি শিশুদের জন্য আলাদা আইসিইউ না থাকায়, কোভিডের সময়ের অক্সিজেন জেনারেটর দিয়েই আইসোলেশন ইউনিটের কাজ চলছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।